Rifat Glass & Thai Fitting

আধুনিক থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম ফিটিংসের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান — ফাজিলচিস্ত, সুবিদ বাজার, সিলেট

আমাদের সেবাসমূহ (Services)

Thai Glass

Thai Glass Works

উন্নত মানের থাই গ্লাস পার্টিশন, ডোর ও উইন্ডো সলিউশন।

Aluminium Fitting

Aluminium Fittings

মজবুত ও টেকসই অ্যালুমিনিয়াম সেকশন ও ফিটিংস কাজ।

Sliding Glass

Sliding Doors & Windows

আধুনিক ডিজাইন ও স্মুথ স্লাইডিং গ্লাস ডোর ও জানালা।

Office Glass

Office Partition & Interior

অফিস এবং শোরুমের জন্য প্রিমিয়াম গ্লাস ডেকোরেশন।

আমাদের প্রজেক্টসমূহ (Projects)

Project 1

Modern Office Partition

সুবিদ বাজার, সিলেট

Project 2

Aluminium Shop Front

ফাজিলচিস্ত, সিলেট

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল (RifatGTF)

আমাদের চ্যানেলের নতুন কাজ ও আপডেট দেখতে ভিজিট করুন।

Subscribe @rifatgtf
মুন্না মিয়া

About Me

Proprietor: মুন্না মিয়া

Rifat Glass & Thai Fitting

ফাজিলচিস্ত, সুবিদ বাজার, সিলেট, বাংলাদেশ

WhatsApp Call Now

ব্লগ ও আপডেটসমূহ

Bangls Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০৪) - bangla choti - bangla love story - life story

 শালুক ফুলের লাজ নাই(০৪)

Bangls Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০৪) - bangla choti - bangla love story - life story
Bangls Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০৪) - bangla choti - bangla love story - life story 


ধ্রুব পকেট থেকে একটা মাউথ অর্গান নিয়ে বাজাতে বসলো। নীল রঙের এই মাউথ অর্গান ছিলো ধ্রুবর বাবা-মা থেকে পাওয়া শেষ উপহার। যখনই ধ্রুবর কষ্ট হয় ভীষণ, ধ্রুব এই মাউথ অর্গান বাজায়।মা'ই তো তাকে শিখিয়েছিলো মাউথ অর্গান বাজাতে।

মায়ের কথা ভাবতেই ধ্রুবর কেমন বুক চিনচিন করে ব্যথা হয়।মা'য়ের চেহারা ও সে প্রায় ভুলতে বসেছে।

আজকে দেখে আবারও মনে পড়লো। আচ্ছা, একটা জীবন তপস্যা করলেও কি ধ্রুব আর বাবা-মা কে এক বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারবে? 


শালুক রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে শুনতে পেলো ভেতর থেকে একটা খুব সুন্দর সুর ভেসে আসছে। শালুকের বুঝতে দেরি হলো না এটা কিসের সুর,আর কেনো বাজছে।এই বাসার সবাই জানে ধ্রুবর যখন অতিরিক্ত মন খারাপ হয় তখন সে মাউথ অর্গান বাজায়।সেই সময় কেউ-ই তাকে ডিস্টার্ব করে না।


মনে মনে এতোক্ষণ ধ্রুবকে যেসব অভিশাপ দিয়েছে তা ফিরিয়ে নিয়ে আল্লাহকে বললো,"আল্লাহ,ধ্রুব ভাইয়ের যাতে কিছু না হয়।ওনার পেট খারাপ যাতে না করে কিছুতেই।এমনিতেই তার মন খারাপ।"


দরজায় নক হতেই ধ্রুব উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। শালুক নাশতার ট্রে বিছানার উপর রেখে বললো, "আপনার নাশতা। "


ধ্রুব এক ঝলক তাকিয়ে বললো, "হাত কেটে গেছে,খাইয়ে দিতে পারলে খাইয়ে দে।নয়তো ট্রে নিয়ে বিদায় হ সামনে থেকে। "


শালুক কিছুক্ষণ ভাবলো কি করবে,তারপর উঠে চলে গেলো। ধ্রুব হাতের দিকে তাকালো। রক্ত হাতেই শুকিয়ে গেছে। ধ্রুব মুচকি হেসে বিড়বিড় করে বললো, "এই হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তার তুলনায় এই রক্ত কিছুই না।হৃদয়ের রক্তক্ষরণ নিয়ে বেঁচে থাকতে পারলে এই সামান্য হাতের কাটাকে কেনো ভয় পাচ্ছি?"


হাসনা বেগম রুমে আসতে আসতে বললেন,"হাত না-কি কে/টে ফেলেছিস ধ্রুব?

শালুক গিয়ে না বললে তো জানতামই না।কি কান্ড বল তো দেখি?"


ধ্রুব হাসলো। এই একটা মানুষ শুধু তাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছে ছোট বেলা থেকে। সবার থেকে ধ্রুব অবহেলা পেয়েছে, এই মানুষটার থেকে পেয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা। 


হাসনা পরোটা ছিড়ে নিয়ে মাংস দিয়ে ধ্রুবর মুখে পুরে দিয়ে বললেন,"ধ্রুব,এভাবে আর কতোদিন বাবা?বাড়ির ছেলে বাড়িতে ফিরে আয় না।কি যে হলো তোর হুট করে। খোকাও আমেরিকা চলে গেলো, তুই ও তার এক সপ্তাহ পর চলে গেলি।বাড়িটা কেমন খাঁখাঁ করে বাবা।জহির ও আসে চট্টগ্রাম থেকে। তোর ফুফু ছেলের জন্য কি যে হাপিত্যেশ করে মরে,অথচ ছেলেটা আসতেই চায় না।আমরা কি ওর পর কেউ?এই বাড়িতে কি ওর মায়ের ভাগ নেই?তবে কেনো ছেলেটা এতো লজ্জা পায় বল তো?"


ধ্রুব খেতে খেতে বললো, "আমি গতরাতে কল দিয়েছিলাম,আমাকে তো বললো আজকে বিকেলের ট্রেনে ভাইয়া ও আসবে।তবে কাউকে বলতে নিষেধ করেছে।মনে হয় ফুফুকে সারপ্রাইজ দিবে চাচী।তুমি কিছু বলো না কাউকে।"


হাসনা উৎফুল্ল হলেন শুনে।দুচোখ আনন্দে চকচক করে উঠলো। ধ্রুবকে সবটা খাইয়ে বের হয়ে গেলেন হাসনা।


শালুকের বড় চাচী আদিবা পাকা কলা,ডিম,এলোভেরা জেল মিশিয়ে কি একটা হেয়ার প্যাক বানিয়ে শালুককে ডাকছে।শালুক একটা হিজাব নিয়ে হিজাব পিন দিয়ে ভালো করে হিজাব বেঁধে নিচে নামলো। 

আদিবা চেয়ারে বসলেন,সামনে একটা মোড়া রাখা।শালুকের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো,এক দৌড়ে নিজের রুমে যেতে নিতেই ধ্রুবর সাথে ধাক্কা লাগলো। 


বিরক্ত হয়ে ধ্রুব বললো, "ষাঁড়ের মতো ছুটছিস কেনো?"


নিচ থেকে আদিবা বেগমের ডাক শোনা গেলো আবারও। 


ধ্রুব জিজ্ঞেস করলো, "বড় চাচী ডাকছে যে কানে যায় না?ওদিকে না গিয়ে রুমের দিকে যাচ্ছিস কেনো?"


শালুক চুপ করে রইলো।কোনোমতে এখন ঝগড়া করা যাবে না।ধ্রুব যদি কোনো মতে জানতে পারে শালুকের চুল নেই তবে আজ শালুকের কপালে শনি আছে। 

মনে মনে দোয়া ইউনুস পড়তে লাগলো। আল্লাহকে বললো, "ইউনুস নবীকে তুমি মাছের পেট থেকে উদ্ধার করেছো আল্লাহ,আমাকে ও আজকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করো।"


শালুককে চুপ থাকতে দেখে ধ্রুবর সন্দেহ হলো। শালুক তো মৌনব্রত করার মেয়ে নয়।তবে সে চুপ করে আছে কেনো।শালুকের হাত ধরে টেনে ধ্রুব নিচের তলার দিকে নামাতে লাগলো। শালুক গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে লাগলো। 


আদিবা বেগম শালুকের হিজাব খুলতে যেতেই আরেকটা যুদ্ধ বাঁধলো।শালুক কিছুতেই তার হিজাব খুলতে দিবে না।আদিবা বেগম মেয়ের সাথে না পেরে ধ্রুবর দিকে তাকালেন।ধ্রুব এগিয়ে এসে শালুকের দুই হাত চেপে ধরে বললো, "আপনি ওর হিজাব খোলেন চাচী।"


হিজাব সরাতেই আদিবা বেগম চিৎকার করে উঠলেন।ধ্রুব কিছু বুঝতে পারলো না। শালুকের পিছনে গিয়ে ওর চুল দেখে ধ্রুব নিজেও চিৎকার করে উঠলো। 


মুহুর্তেই সারা বাড়ি জেনে গেলো শালুকের কোমর সমান চুল শালুক কেটে ফেলেছে। 

মাথা নিচু করে শালুক দাঁড়িয়ে আছে। একটা মানুষের চুল নিয়ে সারা বাড়ির সবার এতো মাথা ব্যথা হবে কেনো শালুক এই হিসেব কিছুতেই মিলাতে পারছে না। 


মুহুর্তেই নিচতলার চেহারা বদলে গেলো যেনো দরবার বসেছে,দাদা দাদী থেকে শুরু করে নয়না আপার পিচ্চি মেয়ে নিধি পর্যন্ত সেই বিচারসভায় হাজির হলো।


সবার এক প্রশ্ন,কেনো শালুক চুল কে/টে ফেলেছে? 


শালুক ভেবে পেলো না কি জবাব দিবে!সে কি বলবে আদনান ভাই ফার্দিকাকে বিয়ে করবে,এই দুঃখে,কষ্টে সে চুল কে/টে ফেলেছে? 

এই কথা শালুক জীবনে ও বলতে পারবে না।

ধ্রুব অস্থির হয়ে পায়চারি করছে।রাগে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে।সে কি-না এই বেকুব, গাধা মেয়েটার জন্য হেয়ার ব্যান্ড, গাজরা নিয়ে এসেছিলো!আর এদিকে সে টাক্কু হয়ে বসে আছে? 


শালুকের মনে হলো, প্রতিবার পরীক্ষায় ফেইল করার পরেও এরকম দক্ষযজ্ঞ বাঁধে নি এবার এরা সামান্য চুল নিয়ে যা করছে।


মিনমিন করে শালুক বললো,"লম্বা চুলে গরম বেশি লাগে,তাই আমি কে/টে ফেলেছি।"


আদিবা বেগম হুঙ্কার দিয়ে বললেন,"গরম লাগে,তোর একার গরম লাগে এই দুনিয়ায়?আর কারো গরম নেই?তোর এতো গরম লাগলে আমাকে বলতি।আমি তোর চাচাকে বলে তোর ঘরে এসি লাগিয়ে দিতাম।তুই কোন সাহসে চুলে হাত লাগালি?"


শালুকের মেজো চাচী দূরে দাঁড়িয়ে প্যাচপ্যাচ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন,"কতো যত্ন করে তোর চুল এতো বড় করছি আমরা।রাত জেগে ইউটিউবে গতকাল রাতেও একটা হেয়ার স্টাইল শিখেছি। অথচ তুই কি-না সব আশায় পানি ঢেলে দিলি?"


আদনান হাসতে হাসতে বললো, "লজ্জায় কে/টে ফেলেছে মা,গিয়ে দেখো কোনো পরীক্ষায় ও আন্ডা পেয়েছে। তাই এই কাজ করেছে।"


ধ্রুব রেগে গেলো আদনানের এই কথা শুনে। হাত মুষ্টি করে নিজেকে সামলালো।


আশা বললো, "শর্ট হেয়ারেও শালুককে কিউট লাগছে আন্টি।ওর জন্য শর্ট হেয়ারই বেস্ট। "


আদনানের বোন আফিফা ধমকে উঠলো আশাকে।চোখ রাঙিয়ে বললো, "তুমি চুপ করো আশা,তুমি এসব বুঝবে না।আমাদের শালুকের চুল আমাদের পরিবারের সবার কাছে একটা ভালোবাসা। তুমি ওসব বুঝবে না।"


হাজার জিজ্ঞাসাবাদের পরেও শালুকের মুখ থেকে কেউ কথা বের করতে পারলো না যখন তখন শালুকের দাদা ধ্রুবকে বললেন,"তোর উপর দায়িত্ব রইলো এই রহস্য উদঘাটনের।"


আদনান হেসেই যাচ্ছে বারবার শালুকের চুলের এই অবস্থা দেখে। শালুককে এই মুহূর্তে ভীষণ রোগা লাগছে।প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে শালুক যেই কষ্ট পেয়েছে এখন বুঝতে পারছে তার চাইতে হাজার গুণ বেশি কষ্ট তার জন্য অপেক্ষা করছে।


কিছুক্ষণ ভেবে শালুক সিদ্ধান্ত নিলো ধ্রুব ভাইকে সে সত্যি কথা বলে দিবে।তা না হলে ধ্রুব যে সহজে শালুককে নিস্তার দেবে না তা শালুকের চাইতে ভালো আর কে জানে?


সন্ধ্যা হতেই শালুক আজ বই নিয়ে বসে গেলো। আজ পড়া নিয়ে কোনো অবহেলা চলবে না।কেননা আজকে শালুকের সামান্য একটু দোষ পেলেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়বে শালুকের উপর। 


এক মগ ধূমায়িত কফি নিয়ে ধ্রুব এলো শালুকের রুমে।শালুককে পড়তে দেখে ধ্রুব মনে মনে হাসলো।

বিছানার উপর দুই পা ভাঁজ করে বসে বললো, "নে এবার ঝেড়ে কাঁশ তো শালুক।কোনো হাংকিপাংকি আমার সাথে করবি না। "


শালুক মাথা নিচু করে বললো, " আমি সরি ধ্রুব ভাই। আমার আসলে মাথার ঠিক ছিলো না। প্রচন্ড রাগে আমি এরকম করে ফেলেছি হুট করে। "


ধ্রুব ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "রাগের কারন কি?"


শালুকের দুই চোখ জলে টইটম্বুর হয়ে গেলো মুহূর্তেই।একটু হাওয়া দিলেই কচু পাতার জলের মতো টুপ করে পড়ে যাবে। 

যন্ত্রণারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো আরো একবার। নেই,নেই,আদনান ভাই আর শালুকের নেই।চিৎকার করে শালুকের এই কথা বলতে ইচ্ছে করলো। 


তবুও আস্তে করে বললো, "আদনান ভাই আমাকে এভাবে ঠকালো কেনো? আমি কি দোষ করেছি?উনি তো আমাকে ভালোবাসতেন তবে কেনো এখন রূপ পাল্টালেন বলেন? 

আমি তো এক বুক আশা নিয়ে আদনান ভাইয়ের দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম।অথচ উনি ফিরে এলেন সাথে হবু বউ নিয়ে। আমার তখন মাথা ঠিক ছিলো না আর।নিজেকে মনে হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায়। কাউকে কিছু বলতে পারি নি আমি।তাই রাগের মাথায় এরকম করে ফেলেছি। "


ধ্রুব যেনো হতভম্ব হয়ে গেলো শালুকের এসব কথা শুনে।মাথার ভেতর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তার রাগ।নিজেকে সংযত করে অবাক দৃষ্টিতে শালুকের দিকে তাকিয়ে বললো, "আদনান ভাই তোকে কখনো ভালোবাসি বলেছে শালুক?"


শালুক চমকে গেলো এই প্রশ্ন শুনে। আদনান ভাই তো তাকে কখনো এরকম কিছু বলে নি। 

মাথা নেড়ে বললো, "না,বলে নি।"


ধ্রুব জিজ্ঞেস করলো, "তোকে কখনো বলেছেন উনি যে তোকে ছাড়া বাঁচবে না,তোকে না পেলে মরে যাবে।সিনেমায় দেখিস না নায়কেরা যেরকম বলে নায়িকাদের? "


শালুক কিছুক্ষণ ভাবলো। আদনান ভাই তাকে বউ বলে ডাকতো ঠিকই তবে এরকম কথা তো কখনো বলেন নি।


আবারও মাথা নেড়ে শালুক বললো, "না বলেন নি কখনো। "


ধ্রুব যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। তারপর বললো, "তাহলে তুই কোন দিক থেকে ভেবে নিলি উনি তোকে ভালোবাসেন?"


শালুক উত্তর দিতে পারলো না সহসা।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, "তাহলে কেনো উনি আমাকে বউ বলতেন?কেনো বলতেন তার ভবিষ্যৎ বাচ্চার আম্মু।দেশে আসার আগেও তো যখন আমার সাথে কথা হয়েছিলো,আমাকে বলেছিলেন যে আমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। এসব কি পজিটিভ সাইন নয়?ভালো যদি না বাসেন তবে কেনো এসব বলতেন?"


ধ্রুব নিশ্বাস ফেলে বললো,",আদনান ভাই এরকমই। ছোট বেলা থেকেই উনি তোকে এভাবে বলতেন।তোর বয়স কম,আবেগ বেশি। তুই টিন-এজ মেয়ে,এটা ওনার মাথায় রাখা উচিত ছিলো। হয়তো উনি কিছুটা মজা নিতে চেয়েছেন তোর সাথে। কিছু মানুষ থাকে যারা মেয়েদের সাথে এসব মজা নিয়ে আনন্দ পায়।ব্যাপারটা যেভাবেই হোক উনি তোর সাথে এভাবে কথা বলায় তুই ব্যাপারটা অনেক দূর পর্যন্ত ভেবে ফেলেছিস।এখানে আসলে দোষ তোর নয় শালুক।তোর এজটাই এরকম।কেউ একটু ইমোশনাল কথা বললে এই বয়সী মেয়েরা তখন নানারকম স্বপ্ন দেখতে থাকে।এজন্য বিপরীত মানুষটার উচিত এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া।তার একটু ভুলে এরকম অনেক মেয়ে অনেক বড় ভুল করে ফেলে।তুই আসলে যেটাকে ভালোবাসা ভেবে কষ্ট পাচ্ছিস সেটা কোনো ভালোবাসা নয়।এটাও একটা আবেগ তোর।


তোর ব্যাপারটা আসলে হচ্ছে তোর অবচেতন মন আদনান ভাইকে পছন্দ করে, সেই ভালো লাগাকে তুই ভালোবাসা ভেবে বসে আছিস।

প্রিয় নায়কের প্রেমের কথা,বিয়ের কথা শুনলে মানুষ যেমন কিছু সময়ের জন্য কষ্ট পায়,তুই ও তাই পাচ্ছিস শুধু।আদনান ভাই তোর শুধুমাত্র পছন্দের একজন মানুষ এর বেশি কিছু না।

আদনান ভাইকে যদি তুই সত্যি ভালোবাসতি তবে তার সামনে এভাবে ঠিক থাকতে পারতি না।হার্দিকাকে দেখেও এভাবে চুপ থাকতে পারতি না।ভালোবাসা হলে প্রিয় মানুষের পাশে অন্য কাউকে সহ্য করা যায় না শালুক।এই যে আজ দুদিন হয়ে গেলো, তুই কি একবারও আদনান ভাইকে দেখে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলতে পেরেছিস,তুই তাকে ভীষণ ভালোবাসিস?

পারিস নি তো।


আমি তোকে বকবো না আজ।কাউকে কিছু বলবো না। আজ তোকে পড়তে হবে না।তুই নিজেই ঠান্ডা মাথায় বসে ভেবে দেখ,এটা তোর সত্যিকার ভালোবাসা না-কি একতরফা ভালো লাগা।

আর সারপ্রাইজের কথা বলছিস,এই যে আমাদের জন্য ভাবী নিয়ে এসেছে এটাই তো সারপ্রাইজ!"


ধ্রুব উঠে চলে গেলো শালুকের রুম থেকে। তারপর থেকে শালুক ভাবতে লাগলো।ভেবে দেখলো আসলেই তো ধ্রুব ভাই ঠিক বলেছে।সে তো এভাবে ভেবে দেখে নি।

নিজের ভাবনা ভাবতে গিয়ে শালুকের মোটা মাথায় অন্য একটা ভাবনা এলো।

ধ্রুব ভাই এসব ব্যাপারে এতো কিছু কিভাবে জানলো?


ধ্রুবর রুমে গিয়ে শালুক জিজ্ঞেস করলো, "তুমি এতো কথা কিভাবে জানো ধ্রুব ভাই? তুমি ও কি কাউকে ভালোবাসো না-কি? "


ধ্রুব চোখ লাল বড় করে তাকাতেই শালুক ভেংচি দিয়ে বললো, "আমি কিন্তু সব জানি,দেখেছি ও।কোন কেশবতীর জন্য যে গিফট এনেছো সব আমি দেখেছি। "


ধ্রুব হেসে উঠে বললো, "ঠিকই জানিস।আমার ও একটা কেশবতী আছে।যাকে আমি ভীষণ রকম ভালোবাসি। এবার ভাগ এখান থেকে। "


চলবে......

Bangla Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০৩) - bangla choti golpo - love story - life story

 

শালুক ফুলের লাজ নাই(০৩)

Bangla Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০৩) - bangla choti golpo - love story - life story
Bangla Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০৩) - bangla choti golpo - love story - life story 


শালুক আজকে নিজের রুমেই ঘুমাবে,শাপলার সাথে ঘুমাতে গেলে তার চুল কেটে ফেলার খবরটা জানাজানি হয়ে যেতে এক মুহুর্ত ও সময় লাগবে না।সবচেয়ে বড় কথা শালুককে নিয়ে একটা ছোট খাটো দরবার বসবে।বাড়িতে মেয়েদের মধ্যে শুধুমাত্র শালুকের চুলই ঘন,লম্বা,সিল্কি।অন্যদের চুল কোঁকড়ানো অথবা ছোট অথবা পাতলা।এজন্য শালুকের চুলে শালুক নিজেই হাত দিতে পারে না। শালুকের মনে হয় চুলগুলো শুধু তার মাথায় রয়েছে,এমনিতে এই চুলের মালিক এই বাড়ির সবাই।

বড় চাচী,মেজো চাচী সপ্তাহে দুই তিন দিন ধরে চুলে বিভিন্ন হেয়ার প্যাক লাগিয়ে দেয় শালুককে।


নিজের রুমের দরজা লাগাতেই শাপলা এসে দরজায় দুমদাম ধাক্কাতে লাগলো। 


শালুক সবেমাত্র মাথা থেকে ওড়না সরিয়েছে,দরজায় দুপদাপ শুনে আবারও ওড়না ভালো করে মাথায় পেঁচিয়ে শালুক উঠে গিয়ে দরজা খুললো।


ফ্যাকাসে মুখে শাপলা দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। শালুক জিজ্ঞেস করার আগে শাপলাই বললো,"আদুর বিদেশিনী আমার রুমে এসে হাজির,আমার সাথে ঘুমাবে না-কি!আমার কেমন জানি লাগতেছে শালুক।তুই ও আয় আমার রুমে। এমনিতেই তো তুই একা ঘুমাতে পারিস না আজ কি মনে করে নিজের রুমে এলি।"


শালুক একটু ভাব নিয়ে বললো,"আমি কি আজীবন ছোট-ই থাকবো না-কি? একা ঘুমানোর অভ্যাস করছি।আর তোর রুমে তিনজন মিলে গাদাগাদি করে ঘুমাতে পারবো না আপা।ফার্দিকারে দেখলে কখন কি করে ফেলি আমার মাথার ঠিক নেই।আমি কসম করেছি এটা নিয়ে। "


শাপলা চোখ গোল করে জিজ্ঞেস করলো, "কিসের কসম?"


শালুক মাথা নেড়ে বলে, "এই দুই তলার কসম,একদিন চরম প্রতিশোধ নিবো।ওই আদনান তার ফার্দিকাকে কি বলেছে জানিস,আমার না-কি ঘুমের ঘোরে হাটার অভ্যাস,মানুষের গলা টিপে ধরার অভ্যাস,তাই আমার সাথে যাতে না ঘুমায়।তখনই আমি কসম করেছি,যদি না করি তবে এই দুইতলা ভূমিকম্পে ভেঙে খানখান হয়ে যাবে আদনাইন্না আর ওর পিরিতির ফার্দিকাকে নিয়ে।"


শাপলা বোনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো, "তুই থাকবি কোথায় তখন?"


শালুক ফিক করে হেসে বললো, "আমাকে এতো বোকা ভেবেছিস আপা?আমি কি সেটা না ভেবেই কসম করেছি না-কি? আমি ছাদে আমার চিলেকোঠার ঘরে থাকবো।ভেঙ্গে গেলে দুইতলা যাবে,ওটা তো ভাঙ্গবে না।ওটার কসম তো করি নি।"


শাপলা হতাশ হয়ে বললো, "তুই যদি জানতি শালুক তুই কি পরিমাণ বোকা,তবে এই কসম করতি না।"


শালুক রেগে গিয়ে বললো, "যা ভাগ এখান থেকে। আসছে আমার বুদ্ধিজীবি। "


শাপলা হতাশ হয়ে চলে গেলো নিজের রুমের দিকে। 


দরজা বন্ধ করে শালুক বিছানায় পিঠ লাগাতেই রাজ্যের ক্লান্তি এসে ভর করলো শালুককে।নিজেকে কেমন নিস্তেজ,নিষ্প্রাণ লাগছে শালুকের কাছে।একটা মানুষের প্রতারণায় শালুক এভাবে গুড়িয়ে যাবে কখনো কি ভেবেছে সে?


অসাড় হয়ে যাওয়া দেহটা যখন ঘুমের রাজ্যে প্রবেশ করছে সেই মুহুর্তে শালুকের মাথায় আসলো সে আসলেই বোকা।

তা না হলে সে কিভাবে বড় চাচীর কাছে গিয়েছিলো তখন চুল বাঁধার জন্য?কেউ যাতে ওর চুল কেটে ফেলার ব্যাপারটা ধরতে না পারে তার জন্য ঘোমটা দিয়ে রাখছে সকাল থেকে। একা ঘুমাতে ভয় পাওয়ার পরেও নিজের রুমে একা ঘুমাতে এসেছে। অথচ সে কি-না এক মুহুর্তে ভুলে গেছে মাথার চুলের কথা।


নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করলো শালুক,"কবে তোর মাথায় বুদ্ধি হবে শালুক?"


জবাব এলো না।


ঘুমাতে গিয়ে শালুকের হঠাৎ করেই মনে হলো জানালার ওপাশে কে যেনো দাঁড়িয়ে আছে। আড়চোখে শালুক সেদিকে তাকাতেই যেনো কিছু একটা সরে গেলো। ভয়ে আতঙ্কে জমে গেলো শালুক।

একা ঘুমাতে গেলেই শালুকের এরকম হয়।সবসময় মনে হয় কেউ একজন আছে, তাকে আড়াল থেকে দেখছে।


হঠাৎ করেই শালুক যেনো নিশ্বাস ফেলার শব্দ ফেলো বিছানার নিচে থেকে। 


পায়ের কাছ থেকে কাঁথা টেনে নিয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো শালুক।মনে মনে একদমে আয়াতুল কুরসি পড়ে যাচ্ছে। 


ঝুম বৃষ্টি নিয়ে সকাল শুরু হলো। জানালার গ্লাসে বৃষ্টির ঝাপটা এসে বারবার আঘাত হানছে।শালুক চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে চারদিক কেমন অন্ধকার হয়ে আছে।হতভম্ব হয়ে গেলো শালুক!

এক ঘুমে সে এক রাত এক দিন কাটিয়ে ফেলেছে!

এমন ঘুম ঘুমিয়েছে যে সন্ধ্যা নেমে গেছে অথচ শালুক টের পায় নি।


অবাক হলো শালুক আবার কিছুটা। কেউ তাকে ডাকলো না কেনো?বিশেষ করে ধ্রুব ভাই বাড়িতে আসার সাথে সাথেই তো মা গলাটাকে একটা ছোটখাটো হ্যান্ডমাইকের রূপ দিয়ে সবার কান ফাটিয়ে ডাকাডাকি শুরু করে। যেনো ধ্রুব কোনো দেশের প্রাইম মিনিস্টার, তাকে দেখতে যেতেই হবে সবার।

আজ এরকম করলো না কেনো তবে মা? নাকি তাও শালুকের কানে যায় নি!


ব্রাশ করে ফ্রেশ হয়ে শালুক পা টিপে টিপে বের হলো রুম থেকে।

তারপর শাপলার রুমে গিয়ে বললো, "আপা, আমাকে কেউ ডাকে নি কেনো?সন্ধ্যা হয়ে গেছে অথচ কেউ একবার ডাকলো না।আমি যদি মরে যেতাম তবে কেউ জানতি ও না তোরা।"


শাপলা বিরক্ত হয়ে বললো, "কানের কাছ থেকে যা তো শালুক,গাধার মতো কথা বলছিস।এমনিতেই রাতভর ওই আশার আর আদনান ভাইয়ের কাহিনি শুনতে শুনতে কান ব্যথা হয়ে গেছে,ঘুমাতে পারি নি সারারাত ধরে। এখন ঘুমাতে দে।

কষ্ট করে একবার গিয়ে দেখ ধ্রুব ভাই আসার কতোদূর!

স্টেশনে কে গেছে তাকে আনতে? "


শালুক চমকালো।ধ্রুব ভাই এখনো আসে নি?তারমানে এখনো সন্ধ্যা হয় নি।আর সে কি-না ভয় পেয়েছে এই ভেবে যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আনন্দিত হয়ে শালুক নিচে নেমে এলো।

হাসনা রান্না ঘরে, সবার জন্য নাশতা বানানো হচ্ছে।বড় চাচী আর মেজো চাচী রুটি বানাচ্ছেন।ফুফু রুটি সেঁকছে।শালুকের মা চুলায় আলু,গাজর,পেঁপে দিয়ে ভাজি করছে।

মতির মা মাছ কুটছেন।


শালুক নাক সিঁটকালো।এইসব হাবিজাবি ভাজাভুজি খেতে শালুকের একেবারে বিরক্ত লাগে।

মেজো চাচা চোরের মতো মুখ করে বসে আছে সোফায়।শালুকের ভীষণ মায়া হলো চাচার জন্য।এই লোকটা কতো বছর ধরে ছেলের মুখে বাবা ডাক শোনে না।বাবা ছেলে মুখোমুখি হন না।একসাথে বসে খান না।


শালুককে দেখে সেলিম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন,"স্কুলে যাবি কখন?"


শালুক আকাশ থেকে পড়েছে যেনো স্কুলের কথা শুনে। বিস্মিত হয়ে বললো,"এই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে তুমি আমাকে স্কুলে যেতে বলো চাচা?সামান্য লেখাপড়ার জন্য তো আর আমি আমার জীবন রিস্কে ফেলতে পারি না, তাই না?বেঁচে থাকার অধিকার আমার ও আছে।"


আদনান চায়ের কাপ নিয়ে আসতে আসতে বললো,"সেই সাথে পরীক্ষায় গোল্লা মারার অধিকার ও শালুকের আছে।"


শালুকের ভীষণ বিরক্তি লাগলো। মনে মনে বললো, "ফার্দিকার সামনে স্মার্ট হতে চাচ্ছো সে আমি ভালো করেই বুঝি।একদিন সবকিছুর শোধ নিবো।শুধু তোমার প্রতি একটা ভালোবাসা ভালোবাসা ব্যাপার আছে বলে চুপ করে থাকি।"


বাহিরে রিকশার টুংটাং শব্দ হতেই সেলিম সাহেব উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন।তারপর ব্যস্ত হয়ে উপরে চলে গেলেন।হাসনা বেগম চিৎকার করে বলতে লাগলেন,"আমার ধ্রুব বাবা আসছে রে,তোরা সব কোথায় গেলি।"


পাতলা একটা সাদা টি-শার্ট পরনে,ব্ল্যাক ট্রাউজার পরে ধ্রুব তখন আধ ভেজা হয়ে হাসনা বেগমের শাড়ির আঁচলে চুল মুছছে।সবাইকে সালাম দিয়ে এগিয়ে গেলো আদনানের দিকে।তারপর দুই ভাই কোলাকুলি করলো।


আদনান আশার দিকে তাকিয়ে বললো, "তোর হবু ভাবী,আশা।আর আশা,এই তোমার বড় দেবর ধ্রুব।"


আশা বিড়বিড় করে বললো, "হ্যান্ডসাম! "


শাপলা ততক্ষণে সেজেগুজে হাজির হয়ে গেলো নিচে।ধ্রুবর পাশে দাঁড়িয়ে বললো, "কেমন আছো ধ্রুব ভাই?"


ধ্রুব মুচকি হেসে বললো, "ভালো আছি,তোরা সব কেমন আছিস?"


শাপলা গাল ফুলিয়ে বললো, "এতোদিনে মনে পড়লো? "


কিছু না বলে ধ্রুব হাসলো।


শালুক ঘোমটা টেনে দিয়ে বসে রইলো শক্ত হয়ে। ধ্রুব কাঁধ থেকে ব্যাগ খুলে শালুকের দিকে ছুড়ে দিয়ে বললো, "ভাব বেড়ে গেছে না-কি তোর?সবাই আমার সাথে কথা বলছে আর তুই ভাব নিয়ে বসে আছিস এখানে?আমার ব্যাগটা রুমে নিয়ে রেখে আয়।ব্যাগের সব কাপড় চোপড় সুন্দর করে গুছিয়ে রাখবি আমার আলমারিতে। ভাঁজ যেনো না ভাঙে শালুক,আই রিপিট ভাঁজ যেনো না ভাঙে। তাহলে তোকে দিয়েই আয়রন করাবো মনে রাখিস।"


শাপলা বললো,"আমাকে দাও,আমি রেখে আসি।"


চোখ লাল করে ধ্রুব তাকালো শাপলার দিকে।তারপর বললো,"তোকে আমি বলেছি?"


শাপলা নিভে গেলো ধ্রুবর চোখ রাঙ্গানো দেখে।

ধ্রুবর রুমে গিয়ে সব কাপড় বের করে শালুক সব দলা মোচড়া করলো প্রথমে।সবগুলোর ভাঁজ নষ্ট হবার পর এলোমেলো করে সবকিছু আলমারিতে গাদাগাদি করে রাখলো।

ব্যাগের উপরের চেইন খুলতেই শালুক অবাক হলো। ভেতরে একটা শপিং ব্যাগে প্লাস্টিকের ফুলের বিভিন্ন রঙের কয়েকটা গাজরা,নানান ডিজাইনের হেয়ার ব্যান্ড।একটা চিরকুটে লিখা,"কেশবতীর জন্য।"


শালুক মুখ বাঁকিয়ে বললো, "তলে তলে টেম্পো চলে,আমরা বললেই হরতাল!"


নিচে আসতেই দেখে সবাই খেতে বসেছে। মেজো চাচা নেই শুধু।শালুক আসতেই ধ্রুব বললো,"তোর চাচাকে বল খেয়ে যেতে,আমি পরে ছোট চাচীর সাথে খাবো।উনি আর ওনার স্ত্রী যেনো খেয়ে আমার সামনে থেকে বিদায় হয়।"


শালুকের বড় চাচা আজাদ সাহেব বললেন,"ধ্রুব বাবা,এখনো এসব ধরে বসে থেকে কি লাভ?শুধুশুধু বাবা ছেলের মধ্যে... "


আজাদ সাহেব কথা শেষ করতে পারলেন না।ধ্রুব কঠোর স্বরে বললো, "এই ব্যাপারে আমি কারো থেকে কোনো সুপারিশ শুনতে চাই না।"


আজাদ সাহেব থেমে গেলেন।শালুকের বাবা ফয়েজ আহমেদ একটা নিশ্বাস ফেলে খাওয়ায় মনোযোগ দিলেন।


ধ্রুব গিয়ে দাদার রুমে বসে রইলো। নাশতা শেষ করে ধ্রুবর দাদা রশিদ সাহেব নাতির পাশে এসে বসলেন।তারপর নরম স্বরে বললেন, "আমাকে মাফ করে দিস দাদাভাই। আমার জন্যই তোর শৈশব,কৈশোর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। আমার জন্যই তুই বাবা মা হারা হলি।"


ধ্রুব হেসে বললো, "তোমার কোনো দোষ নেই দাদা।এসব ভেবে তুমি আপসেট হইও না।"


দাদার রুম থেকে বের হয়ে ধ্রুব ছাদের দিকে গেলো।ছাদের নিজের রুমে ঢুকে বেশ বড়সড় একটা ধাক্কা খেলো ধ্রুব।দেয়ালে দীপালি নামক মহিলার একটা ছবি ঝুলছে। 


মুহুর্তেই ধ্রুব ক্রোধান্বিত হয়ে গেলো। ছবিটি নামিয়ে সোজা নিচতলায় গেলো। সবাই তখনো ডাইনিং টেবিলে বসে খাচ্ছে। আচমকা ধ্রুব ছবিটি আছড়ে ফেললো ফ্লোরে।মুহুর্তের মধ্যে শত খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গেলো ফ্রেমের সব কাঁচ।কয়েকটা কাঁচ কুড়িয়ে নিয়ে ধ্রুব আবারও ভাঙ্গলো। ফলস্বরূপ নিজের দুই হাত কেটে গেলো কিছুটা। 


চিৎকার করে ধ্রুব বললো, "এই কাজ কে করেছে?আমার অপছন্দ জেনেও কে এই কাজ আবারও করেছে ছোট চাচী? 

এই ছবি আমার ঘরে কেনো লাগানো হলো?"


হাসনা নিজেও জানে না কে লাগিয়েছে।কিন্তু ধ্রুবকে এভাবে রাগতে দেখে বললেন,"বাবা মাথা গরম করিস না।আমি লাগিয়েছি বাবা।আমার ভুল হয়েছে। আর হবে না এরকম।"


ফোঁস ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে ধ্রুব বললো, "শুধু তুমি বলে আজ আমি থেমে গেলাম। এই কাজ আর করো না চাচী।নয়তো ধ্রুবকে চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।এখন তো তুমি আছো বলে তোমার টানে ফিরে আসি,এরপর আমাকে আর খুঁজে পাবে না।"


তারপর হনহনিয়ে দোতলায় নিজের রুমে চলে গেলো ধ্রুব।


রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ফরিদা থরথর করে কাঁপছে। হাসনা তার দিকে তাকাতেই ফরিদা বললো, "আমার ভুল হয়ে গেছে আপা।ধ্রুবর বাবা মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে এই ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। বউ হয়ে আমি কিভাবে সহ্য করি বলেন যে আমার স্বামী তার প্রথম স্ত্রীর ছবি এভাবে লুকিয়ে দেখে?তাই ছবিটি আমি ধ্রুবর ছাদের ঘরে লাগিয়ে রেখেছি।ভেবেছি মায়ের ছবি দেখলে ধ্রুবর রাগ একটু হলেও কমবে।এখন দেখছি আমি ভুল ছিলাম।"


হাসনা কঠোর স্বরে বললো, "এরকম কাজ আর কখনো করতে যেও না আপা।আমাকে জিজ্ঞেস না করে আর কখনো এসব কাজ করবে না।"


শালুকের ভীষণ মায়া হলো ধ্রুব ভাইয়ের জন্য।একটা মানুষ মনের ভেতর কতো যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখে তা আমরা বাহিরে থেকে কি একটুও বুঝতে পারি?

মা নেই,বাবা থেকেও নেই,একা জীবন যে কাটায় তার কষ্টের গভীরতা কে মাপতে পারে? 


হাসনা শালুককে ডেকে বললো, "ধ্রুবর ঘরে ওর নাশতা নিয়ে দিয়ে আয় শালুক।"


নাশতার ট্রে হাতে নিতেই শালুকের রাগ হলো। সে খেয়েছে হাবিজাবি ভাজাভুজি দিয়ে অথচ ধ্রুব ভাইয়ের জন্য ঘন করে বানানো দুধ চা,পরোটা, কসা মাংস,ডিম ভাজা।


শালুক মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে মনে মনে  বললো, "এই যে আমার মা হয়ে আমার সাথে খাবার নিয়ে এই বাটপারি করলো মা,আমার কি কষ্ট কম হচ্ছে?সবাই ধ্রুব ভাইয়ের ব্যথা অনুভব করে,শালুকের ব্যথা কেউ বুঝে না।"

অভিশাপ দিলাম ধ্রুব ভাইকে,এই খাবার খাওয়ার পর তার পেট খারাপ করুক।যাতে বাথরুমেই তার থাকার ব্যবস্থা হয়।স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই যাতে খেতে না পারে। "


Next part 


Bangla Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০২) - bangla choti golpo - love story - life story

শালুক ফুলের লাজ নাই(০২)

Bangla Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০২) - bangla choti golpo - love story - life story
Bangla Golpo - শালুক ফুলের লাজ নাই(০২) - bangla choti golpo - love story - life story 


শালুক সিদ্ধান্ত নিলো ওই হার্দিকাকে ও আশা বলে ডাকবে না,হার্দিকা ও বলবে না।ও তাকে ফার্দিকা বলে ডাকবে।রাতে খাওয়ার সময় শালুক বসলো না প্রথম ব্যাচে।শালুকদের বাড়িতে মা, চাচী,ফুফু,দাদী এরা সবাই পরের ব্যাচে বসে।শালুকের ওই ফার্দিকাকে সহ্য হচ্ছে না কিছুতেই।খেতে বসে আদনান ভাইয়ের করা আদিখ্যেতা দেখলে শালুকের ইচ্ছে করবে কাঁচের গ্লাস ছুড়ে ফার্দিকার   মাথা ফা/টিয়ে দিতে।

তবে একটা নাটক দেখার লোভ ও শালুক সামলাতে পারলো না। নয়না আপার সামনে আদনান ভাই কিভাবে ফার্দিকাকে যত্ন খাওয়ায় তাই দেখার ইচ্ছা।

শালুক স্টাডি রুম থেকে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে ফ্রিজের পাশে বসলো। ফ্রিজ আর ডাইনিং টেবিলের দূরত্ব ১০-১২ হাত।


নয়না বসেছে আদনানের মুখোমুখি। আদনান মুরগির কলিজা ভুনা নিয়ে আশার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো, "এটা খেয়ে দেখো,ছোট চাচীর হাতের স্পেশাল রান্না এটা।তোমাকে বলেছি না ছোট চাচী হচ্ছে দ্রৌপদীর ছোট বোন,উনি যা রান্না করেন তাই বেস্ট হয়।"


আশা মুচকি হেসে বাটিটা নিতে যাবে তখনই নয়না বললো,"বাটিটা এদিকে দাও তো আশা যদি তুমি না খাও।নিধিকে আবার সবসময় এসব পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হয়।এখন তো এসব খাবার ছোটদের বেশি দরকার। "


আশা হাসিমুখে বাটিটা ঠেলে দিলো নয়নার দিকে।আদনান জ্বলন্ত দৃষ্টিতে নয়নার দিকে তাকিয়ে রইলো। নয়না মুচকি হেসে বললো, "আশা তুমি আবার ভেবো না যেনো তোমার মুখের খাবার আমি কেড়ে নিয়েছি।না বোন,আমার আবার এসব অভ্যাস নেই।এসব আমাকে দিয়ে হয় না,মেয়েটা আবার সব খাবার মুখে তোলে না।বাবার আদরের মেয়ে তো,ডাল ভাত দিলে নাক সিটকায় এই মেয়ে এখনই। ওর বাবা ও তেমন, মেয়ে কি খাবে তা আগে হাজির করে রাখে।"


আশা হেসে বললো, "না না নয়না,এসব কি বলছো।নিধি বাচ্চা মানুষ, ওর তো এসব খেতে হবে এখন।"


আশা না বুঝলেও আদনান ঠিকই বুঝলো নয়না কি বুঝাতে চেয়েছে।আশা যদি বুঝতো নয়না তাকে মিন করে কথাটা বলেছে,আদনানকে আশা কেড়ে নিয়েছে তবে আদনানের কপালে শনি ছিলো। 

নয়না বাড়িতে যতোক্ষণ আছে আদনানকে সতর্ক থাকতে হবে।কোনো ভাবেই যেনো নয়না আদনানের সাথে আলাদা করে কথা বলতে না পারে। বহু চেষ্টায় আদনান এই বড় মাছকে বঁড়শিতে গেঁথেছে। এ নয়না,শালুকের মতো চুনোপুঁটি নয়,রাঘব বোয়াল।


চোখ মুখ শক্ত করে আদনান নয়নার দিকে তাকিয়ে রইলো। দূর থেকে তার দিকে তাকিয়ে রইলো শালুক।নয়নার কথাতে শালুক খুশি হলেও বুকের ভেতরের জ্বলুনি কমছে না।

ইচ্ছে করছে আদনান ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতে,"আমাকে এভাবে ঠকালে কেনো আদনান ভাই,আমি তো তোমার বউ হবার স্বপ্ন দুচোখ ভরে দেখেছিলাম।আমার কি দোষ ছিলো? "


প্রথম ব্যাচের খাবার শেষ হওয়ার পর মহিলারা খেতে বসলো। শালুকের ততক্ষণে ক্ষিধে মরে গেছে।বুকভর্তি যন্ত্রণা শালুককে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে।


হাসনা এবার আর শালুককে আলাদা খেতে দিলেন না।নিজের পাশে বসিয়ে দিলেন।একপাশে শান্ত আর অন্য পাশে শালুককে নিয়ে হাসনা খেতে বসলেন।শান্ত শালুকের ছোট ভাই,৯ বছর বয়স। ডান পা আর ডান হাতে ওর কিছুটা সমস্যা আছে।ডান পা বাম পায়ের চাইতে খাটো হওয়ায় সমান তালে হাটতে পারে না।ডান হাতে খেতে পারে না,গুছিয়ে কথা বলতে পারে না,সহজে কিছু বুঝতে পারে না।


অথচ দুচোখ ভর্তি মায়া তার,চেহারা দেখলে মনে হয় যেনো দেবশিশু। শালুকের সবচেয়ে বেশি মায়া তার এই ছোট ভাইয়ের জন্য।


হাসনা এক লোকমা শালুকের মুখে দিচ্ছেন এক লোকমা শান্তর মুখে দিচ্ছেন।নিজে খাচ্ছেন না।

খাওয়াতে খাওয়াতে শালুকের মেজো চাচী ফরিদাকে জিজ্ঞেস করলেন, "ধ্রুবকে কল দিয়েছো আপা?"


ফরিদা চোখ নিচু করে বললো, "আমার কল কি ও কখনো রিসিভ করে আপা?,আপনি দিয়ে দেখেন,এই জগৎ সংসারে আপনি ছাড়া অন্য কাউকে তো ও মান্য করে না।"


ধ্রুব ভাইয়ের কথা শুনে শালুকের চোখ মুখ শুকিয়ে গেলো, কাশি লেগে গেলো। 

হাসনা মেয়েকে পানি খাইয়ে দিয়ে বললেন,"মানুষ হবি না তুই আর।হাতে পায়ে বড় হয়েছিস শুধু মাথায় বুদ্ধি হয় নি।"


হাসনার কথার মধ্যেই শাপলা ফোন নিয়ে ছুটে এসে বললো, "মা ধ্রুব ভাই কল দিয়েছে। "


হাসনা বেগমের চোখ মুখ ১০০ ওয়াটের বাল্বের মতো জ্বলজ্বল করে উঠলো। কল রিসিভ করেই বললেন,"হ্যাঁ বাবু,বল কেমন আছিস?তোর কথাই বলছিলাম তোর মায়ের সাথে।হাজার বছর বাঁচবি তুই।"


ওপাশ থেকে গম্ভীর গলায় ধ্রুব বললো, "আমি ভালো আছি চাচী।তোমরা সবাই কেমন আছো?"


"আমরা ও ভালো আছি বাবা।জানিস তো,আজ সকালেই তোর ভাই এসেছে। খোকা আর ওর হবু বউ এসেছে আমেরিকা থেকে। বাসায় সবাই আছে, শুধু তুই নাই।"


"আমি ও আগামীকাল আসছি চাচী,ক্যাম্পাসে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরাট ঝামেলা লেগেছে। মারামারি, ভাঙ্গাভাঙ্গি চলছে হরদম। বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ,এমনকি হল ও বন্ধ করে দিয়েছে। এবার আর না এসে পারছি না বাসায়।রাতের ট্রেনেই উঠছি,সকাল সকাল বাড়ি পৌঁছে যাবো।"


হাসনা বেগম আনন্দিত গলায় বললেন,"এরকম ঝামেলা যেনো তোর ক্যাম্পাসে সবসময় হয় বাবু,তাহলে অন্তত আমরা তোকে চোখে দেখার সুযোগ পাবো।খোকা বিদেশে ছিলো তাও ওকে রোজ ভিডিও কলে দেখতাম,অথচ তুই দেশে থেকেও আজ দুই বছর তোকে দেখি না।তোর চেহারাও প্রায় ভুলতে বসেছি।"

এই বাড়িতে সবাই আদনানকে খোকা বলে ডাকে আর ধ্রুবকে বাবু বলে ডাকে।


"এবার আসলে একটা ছবি বাঁধাই করে তোমার বেডরুমে লাগিয়ে দিয়ে যাবো।প্রতিদিন ছবিটা দেখলে আর ভুলবে না।"


স্পিকার অন থাকায় সবাই খিলখিল করে হাসতে লাগলো ধ্রুবর কথা শুনে। ধ্রুব কল কেটে দিলো। ফরিদা বেগম কাঁচুমাচু হয়ে বললেন,"আপা,ধ্রুবর রাগ কি এখনো কমে নি?আমার ভীষণ খারাপ লাগে আপা।আমি কি দোষ করেছি,আমি তো জানতাম না ধ্রুবর বাবা মায়ের ব্যাপারে কোনো কিছু।মাঝখান থেকে ফেঁসে গেলাম আমি।তাছাড়া তখন অল্প বয়স ছিলো, সংসার বুঝতাম না।"


হাসনা বেগম আশ্বাস দিয়ে বললেন,"ভেবো না আপা,সব ঠিক হয়ে যাবে।"


 শালুকের হাত পা কাঁপতে লাগলো থরথর করে। আদনান ভাই তো ফেলটুস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ত্থাকে,এই বান্দা তো তার ও এক কাঠি উপরে।শালুক মনে মনে বললো, "মরার উপর খাড়ার ঘা বুঝি একেই বলে আল্লাহ?"


হাসনা বেগম মতির মাকে ডেকে বললেন, "ধ্রুবর ঘর সবগুলো গুছিয়ে ফেলতে হবে রাতের মধ্যেই। ছাদের রুমটা তুমি পরিষ্কার করো,আমি ওর বেডরুম আর স্টাডি রুম গুছিয়ে ফেলছি। "


মতির মা চোখ মুখ করুণ করে বললো, "আম্মা,এখন আমারে যদি কন একটা সুতা আইনা দিতে আমি তাও আনতে পারমু না।স্টার জলসায় অক্ষন আমার সিরিয়াল দেখনের সময়। এখন আমারে ডিস্টাপ দিয়েন না।"


হাসনা বেগম জানেন এখন মতির মা'কে দিয়ে কিছু করানো যাবে না।পানের বাটা কোলে নিয়ে শালুকের দাদী সিতারা বেগমের রুমে যাবেন,তারপর ওনার হাতে পায়ে মালিশ করবেন আর দুজনে মিলে সিরিয়ালের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করবেন।


হাসনা বেগম মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বললেন,"তোরা দুইজন ছাদের রুমটা গুছিয়ে ফেল গিয়ে।কতোদিন পর ছেলেটা আসবে।"


শালুক মুখ বাঁকালো,শাপলা তাৎক্ষণিক রাজি হয়ে গেলো। দুই বোন ছাদে গিয়ে ধ্রুবর রুমটা গুছাচ্ছে।শালুক কাজের চাইতে অকাজ বেশি করছে।

এই যেমন ধ্রুবর সবগুলো মেডেল এলোমেলো করে রাখছে।টেবিলের উপর থাকা ধ্রুবর বই যেভাবে সাজানো ছিলো শালুক সেগুলো এদিক সেদিক করে রাখছে।শাপলা গিয়ে ওয়াশরুম পরিষ্কার করছে।শালুক আলমারি থেকে তেলাপোকা বের করে ধ্রুবর বিছানার নিচে রেখে বিছানার চাদর তোশকের নিচে গুঁজে রাখলো যাতে করে তেলাপোকা বের হতে না পারে। 


মার্কার পেন দিয়ে বাম হাতে রিডিং টেবিলের সাথের দেয়ালে লিখলো,"আমি ধ্রুব,সবকিছুতে সিরিয়াস থাকি।সিরিয়াস থাকতে থাকতে আমার টয়লেট ও সিরিয়াস হয়ে গেছে। এজন্য সহজে আমার টয়লেট পায় না।"


নিজের লিখা দেখে শালুক নিজেই সন্তুষ্ট হলো।রাইটিং এক্সপার্টের বাবার ও সাধ্য নেই বের করে যে এই লিখা শালুক লিখেছে।শালুকের প্রতিশোধপরায়ণ মন কিছুটা শান্তি পেলো।সেই কবেকার কথা,ধ্রুব ভাই বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে একদিন শালুকের সব হোমওয়ার্কের মাঝখানে গোটগোট করে লিখে দিয়েছিলো,"আমি শালুক,মাথা ভর্তি গোবর নিয়ে থাকি।এজন্য সবসময় আমার শরীর থেকে গোবরের সুবাস আসে।গোবরভর্তি মাথায় এজন্য আমার পড়ালেখা ঢুকে না।"

সেদিন এক বিষয় হোমওয়ার্ক ও শালুক স্যারদের দিতে পারে নি। দুই হাত লাল করে বাড়িতে এসেছে স্যারদের বেতের মার খেয়ে।


ধ্রুবর উপর শালুকের ভীষণ ক্ষোভ। ছোট বেলা থেকেই এই লোকটা শালুককে জোর করে সব কিছুতে।বিশেষ করে পড়ার ব্যাপারে। যেখানে শালুক নিজেই জানে তার মাথা ভর্তি গোবর, এই মাথায় লেখাপড়ার চাইতে বেগুন টমেটোর চাষ করে লাভবান হওয়া যাবে সেখানে এই ধ্রুব কিছুতেই তা মানতে চায় না।তার কথা হচ্ছে আল্লাহ সবাইকেই মেধা দিয়েছে, শালুক নিজের মেধায় জং ফেলে দিয়েছে। শালুকের উচিৎ সেই মেধায় শান দিয়ে ধারালো করা।শালুককে পড়ানোর জন্য সবসময় খেপাতে থাকে ধ্রুব।যাতে করে রাগের বশে হলেও শালুক একটু পড়ে। কিন্তু শালুক কেনো জানি এই একটা ব্যাপারেই রাগ করতে পারে না। কিছুতেই না,যদি একটু রাগ করতে পারতো তবে সব বিষয়ে খারাপ করলেও অন্তত ইসলাম শিক্ষায় তো ভালো করতো।অথচ শালুক সব বিষয়ে টেনেটুনে পাশ মার্কস পায় আশেপাশের সবার থেকে দেখে দেখে। মাঝেমাঝে শালুক নিজেই নিজেকে বলে, "এতো গাঁধা স্টুডেন্ট যে এই পৃথিবীতে আছে তা আমি আমাকে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না।প্রাউড ফিল করছি নিজেকে নিয়ে। "


শাপলা এসে দেখে শালুক তেমন কিছুই করে নি রাগে গজগজ করতে করতে শাপলা সোফা মুছলো,সেন্টার টেবিল মুছলো।ছোট ফ্রিজটা মুছলো।শালুককে কড়া গলায় বললো, "জলদি করে বইয়ের আলমারিটা মুছে ফেল শালুক।তারপর সবগুলো ক্রেস্ট মুছবি।"


শাপলা একটা চেয়ার টেনে নিয়ে দেয়ালে লাগানো ধ্রুবর মা দীপালির ছবিটা নামিয়ে আনলো।তারপর কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো,"দেখ শালুক,তোর আর চাচীর ছবির মধ্যে কতো মিল রয়েছে। "


শালুক চাচীর ছবি দেখে কেঁপে উঠলো। শালুকের নাকের গড়ন মেজো চাচীর মতোই।ভয়ার্ত স্বরে শালুক বললো, "আপা,ছবিটা এখানে লাগানো কি ঠিক হয়েছে? কে লাগালো এখানে?কবে লাগালো? "


শাপলা মাথা নেড়ে বললো, "কি জানি শালুক,আমি তো জানি না।এই ঘরে আজকেই তো এলাম।দেয়ালে লাগানো দেখে পরিষ্কার করতে নামিয়েছি।"


শালুকের ভীষণ ভয় হলো।ধ্রুব ভাই নিজের মায়ের ছবি দেখলে কেমন রিয়েক্ট করবেন কে জানে?

ফিসফিস করে শালুক বললো,"ছবিটা লুকিয়ে রাখ আপা,ধ্রুব ভাই রাগ করে বাড়ি থেকে চলে ও যেতে পারে। "


শাপলা একটুক্ষণ ভেবে বললো, "এমন ও তো হতে পারে,মায়ের ছবি দেখলে ধ্রুব ভাইয়ের রাগ কমবে।অনেক বছর তো হলো, এখনো কি সেই রাগ পুষে রেখেছে না-কি? "


শালুক কোনো কথা বলতে পারলো না। তবে বুকের ভেতর কেমন ভয়ের শিহরণ বইতে লাগলো। শালুকের এই ভয় একটু পরেই যন্ত্রণায় রূপ নিলো যখন দেখলো আদনান ভাই আর ফার্দিকা ছাদে এসে হাত ধরাধরি করে হাটছে।


শাপলা আর শালুক দুজনেই ধ্রুবর রুম থেকে বের হয়ে এলো। ধুপধাপ পা ফেলে শালুক চলে গেলো। নিজের রুমের সামনে গিয়ে ও শালুক থেমে গেলো। বেহায়া মনটা বারবার বলছে চোরের মতো গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে এরা ছাদে কি করছে?

এই ফার্দিকা কি আদনান ভাইকে আবারও চুমু খাচ্ছে?

শালুকের ভীষণ কষ্ট হলো এটা ভাবতেই।লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে,সকল ম্যানার ভুলে গিয়ে শালুক পা টিপে টিপে ছাদের দিকে গেলো।ছাদের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখলো দুজনেই দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে,দুজনের হাতে দুটো সিগারেট জ্বলজ্বল করছে আবছা অন্ধকারে। 

চমকে উঠলো শালুক!

এই ফার্দিকা মেয়েটা ধুমপান করে?এ ও সম্ভব! 

আদনান ভাই এরকম একটা মেয়েকে বউ করতে চাচ্ছে?আদনান ভাইয়ের রুচি এতোটা খারাপ? 


শালুক আর দাঁড়াতে পারলো না ছাদে।নিচে নেমে এসে নিজের রুমে বসে ভাবতে লাগলো। শালুকের ছোট্ট জীবনে শালুক এতোটা অবাক আর হয় নি।ছেলেরা ধুমপান করে এই ব্যাপারটাই শালুকের যেখানে মেনে নিতে আপত্তি সেখানে ফার্দিকার ধুমপান করাটা শালুকের কাছে রীতিমতো অষ্টম আশ্চর্য! 


ঘুমানোর সময় একটা মজার ব্যাপার ঘটে গেলো।শালুক এসেছিলো বড় চাচীর কাছে চুল বাঁধতে,এসে দেখে চাচী আদনান ভাইয়ের রুমে। 

 ফার্দিকা আদনান ভাইয়ের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো। আদনানের মা আদিবা বেগম বোনঝিকে ফিসফিস করে বললেন,"এটা বাংলাদেশ আশা,এখানকার কালচার অন্যরকম। সবাই কি মনে করবে তোরা এখনই একসাথে এক বিছানায় থাকলে?তুই আয়,তোর জন্য আমি অন্য একটা রুম গুছিয়ে রেখেছি সকালেই।"


আশা হতভম্ব হয়ে বললো, "এটা কেমন কথা আন্টি,আমি আর আদনান কেউই অবুঝ নয়।আমেরিকাতেও আমরা প্রায় সময় এক বেডে থাকতাম।তখন তো কোনো প্রবলেম হতো না। এখানে কিসের প্রবলেম আন্টি?"


আদনান মায়ের সামনে লজ্জা পেলো কিছুটা, তারপর আশাকে নানা ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে বললো, "প্লিজ আশা,ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড বেইব।"


আশা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, "ওকে ফাইন।তবে আমি একা ঘুমাতে পারবো না। আমি শালুকের সাথে ঘুমাবো।"


আদনান চমকে উঠলো শুনে।শালুক,নয়না কেউই নিরাপদ নয়।আদনান ষড়যন্ত্রের ভঙ্গিতে বললো, "শালুকের ঘুমের ঘোরে হাটাচলা করার অভ্যাস আছে,ওর পাশে কেউ ঘুমালে তার গলা টিপে ধরে ঘুমের ঘোরে,লাথি মেরে ফেলে দেয় বিছানা থেকে। বেইব,আমি তোমার কোনো ক্ষতি হোক তা চাই না।তুমি বেটার শাপলার সাথে ঘুমাও।"


অনিচ্ছা সত্ত্বেও আশা বের হয়ে গেলো আদনানের রুম থেকে।আড়ালে দাঁড়িয়ে শালুক এসব শুনে রেগে গেলো। 


দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড়িয়ে বললো, "আদনাইন্নার বাচ্চা, আমার নামে এসব মিথ্যা কথা বললি তুই?মনে রাখিস,এসব কিছু একদিন আমি বাস্তবায়ন করবো তোর আর তোর ফার্দিকার উপরে। যদি না করি তবে আমি ফেলটু শালুক না।এই দুইতলার ফ্লোরের উপর দাঁড়িয়ে শপথ নিলাম।কসম এই দুইতলার, যদি না করি তবে এই দুইতলা ভূমিকম্পে ভেঙে যাবে।"


চলবে......

Next part 

Bangla Golpo pdf - শালুক ফুলের লাজ নাই(০১) - bangla choti golpo - Love story - Life story

 শালুক ফুলের লাজ নাই(০১)

Bangla Golpo pdf - শালুক ফুলের লাজ নাই(০১) - bangla choti golpo - Love story - Life story
Bangla Golpo pdf - শালুক ফুলের লাজ নাই(০১) - bangla choti golpo - Love story - Life story 


আদনান গাড়ি থেকে নেমে হাত বাড়িয়ে জিন্স,টপস পরা এক মেয়েকে বের করে আনলো। চার বছর ধরে দেখা শালুকের দুই চোখ ভর্তি স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে আর এক মুহূর্ত ও সময় লাগলো না সেই মুহুর্তে। আদনান ভাই!শালুকের আদনান ভাইয়ের পাশে এই কে?এরকম হবার তো কথা ছিলো না। 

অথচ আদনান ভাই আসবে বলে শালুক আজ লাল শাড়ি পরেছে।আদনান ভাই তো তাকে বলেছিলো,শাড়িতে শালুককে একেবারে বউ বউ লাগে,তিনি যেদিন দেশে আসবেন শালুক যেনো একটা লাল শাড়ি পরে সেদিন।


আদনান সবার সাথে বিদেশিনীর পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে,শালুকের সামনে এসে বললো, "মিট মাই লাভলি লিটল সিস্টার।শালুক,এই তোর ভাবী আশা।যদিও ওর নাম হার্দিকা তবে আমি ওকে ভালোবেসে আশা বলি।ওর বিদেশি নাম তো সবাই ঠিক করে বলতে পারবে না।হার্দিকা নামের অর্থ জানিস?অর্থ হচ্ছে প্রেমে ভরা একটি হৃদয়। 

আর তুই তো আরো আগে ওর নাম ভুল উচ্চারণ করবি,এমনিতেই সারাবছর অংক আর ইংরেজিতে ডাব্বা মারিস।"


একদমে কথাগুলো বললো আদনান।

আদনানের কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো। লজ্জায়,অপমানে শালুকের দুই কান লাল হয়ে গেলো। শালুক তাকিয়ে দেখে তার নিজের মা বাবা ভাই বোন ও হাসছে সবার সাথে তাল মিলিয়ে। 


এক মুহুর্ত ও দাঁড়ালো না শালুক সেখানে আর।এক ছুটে ছাদের ছোট্ট খুপরি ঘরে গিয়ে লুকালো।ভেতর থেকে কে যেনো বিদ্রোহ শুরু করেছে।বারবার বলছে,"আদনান তোকে ঠকিয়েছে শালুক।তুই ঠকেছিস।"


শালুকদের বিশাল বাড়িটি সাড়ে তিনতলা।এক তলায় ১৫ টা করে রুম। দুই তলার ছাদের অর্ধেক জুড়ে আছে বিভিন্ন ফল,ফুলের গাছ,দোলনা,বসার জন্য বেঞ্চি।তার একপাশে দুইটা রুম ও আছে।আর অন্যদিকে আছে ছোট একটা খুপরি। খুপরি আর দুইটা রুমের মাঝখানে বিশাল খালি জায়গা।খুপরিটা শালুকের একান্ত ব্যক্তিগত। খুপরি ঘরের নীল দরজায় কালো মার্কার পেন দিয়ে বড় বড় অক্ষরে লিখা,"শালুকের রাজ্যে আপনাকে স্বাগতম।"


ভেতরে ঢুকে শালুক শাড়িটি খুলে ফেললো। সেলোয়ার-কামিজ পরে একটা কাঁ/চি নিয়ে শাড়িটি অসংখ্য টুকরো করে ফেললো কে/টে।ক্লাস টেনে পড়ুয়া শালুকের কাছে মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে পৃথিবীতে তারচেয়ে বেশী অসহায় আর অন্য কেউ নেই।


একপাল বাচ্চার মধ্যে বড় হওয়া শালুক খুব ছোট বেলায় টের পেলো আদনান ভাই নামক মানুষটাকে তার ভীষণ ভালো লাগে।আদনান ভাই শালুকের নাম ধরে ডাকলে শালুকের ভীষণ লজ্জা লাগতো। এই ভালো লাগা কি শালুক জন্ম দিয়েছে? 

মোটেও না,আদনান ভাই যেদিন থেকে ওকে হেসে হেসে বলতো,"এই ফেলটুস শালুককে আমি ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে করবে না।"সেদিন থেকেই শালুক লজ্জা পেতো।সেই লজ্জা ধীরে ধীরে ভালোলাগা থেকে ভালোবাসায় রূপ নিলো। 

সবাই তাকে আদনানের বউ বলে খেপাতো।সেই ছোট বয়সেই শালুক ধরে নিয়েছিলো আদনান ভাই তার একান্ত ব্যক্তিগত মানুষ। 

সেই ধারণা আরো পোক্ত হলো আদনান ভাই বিদেশ যাবার পর। শালুক যখন ক্লাস এইটে উঠলো আদনান ভাই তো সেদিন তাকে বলেছিলো,"জেএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হবে শালুক,আমার বাচ্চারা নয়তো তোকে ফেলটুস মা বলে খেপাবে।"


সেদিন আদনান ভাইয়ের কথা শুনে শালুক কল কেটে দিয়েছে। এই লোকটা এতো লজ্জা দিয়ে কথা বলতে পারে! 


সেই মানুষের পাশে আজ অন্য মেয়ে দাঁড়িয়ে।হার্দিকা না ফার্দিকা নামের একটা মেয়েকে নিয়ে এলো আদনান ভাই? 

শালুকের কেমন দম বন্ধ লাগছে,অনুভূতিতে আজ সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে।কিশোরী মনের প্রলয়ঙ্কারী ভালোবাসা আদনান বুঝলো না।

বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে শালুক অঝোরে কাদলো।শালুকের সেই কান্নার একমাত্র সাক্ষী ছিলো নীল আকাশ।

এই নীল আকাশ সব কিছুর সাক্ষী, সেদিনও এই আকাশ সাক্ষী ছিলো যেদিন আদনান ভাই তাকে বলেছিলো,"আমার শালুকটা আজ কতো বড় হয়েছে কে জানে!চুমু খাওয়ার মতো বড় হয়েছে কি?"


বৈশাখ মাস শুরু হয়েছে,হঠাৎ করেই নীল আকাশ কালো হয়ে গেলো। শালুকের অশান্ত মনের মতো আকাশটাও মুহুর্তে আশান্ত হয়ে গেলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো। 

শালুক বৃষ্টিতে ভিজতে পারে না,বৃষ্টির পানিতে ওর এলার্জি আছে।


জানালার কাঁচের এপাশে দাঁড়িয়ে শালুক চোখের জল বিসর্জন দিচ্ছে আর তার ব্যথায় ব্যথিত হয়ে আকাশ ও সমানতালে বর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পরেই শালুক দেখতে পেলো আদনান ভাই মেয়েটার হাত ধরে ছাদে চলে এসেছে। দুজন মিলে হাত ধরাধরি করে বৃষ্টিতে ভিজছে।

শালুকের বুকের ভেতর আগুন জ্বলে উঠলো। হার্দিকা না ফার্দিকা মেয়েটার রিবন্ডিং করা সোজা তারের মতো চুলগুলো লাফালাফি করার কারণে মুখে এসে পেঁচিয়ে গেছে। জানালার ওপাশ থেকে শালুক দেখলো আদনান ভাই পরম যতনে মেয়েটার চুল সরিয়ে দিচ্ছে মুখ থেকে।


খিলখিল করে হেসে মেয়েটা তার মাথা নাড়াচ্ছে,তার কাঁধ সমান চুল  আদনানের মুখে গিয়ে লাগছে।মুগ্ধ হয়ে আদনান তা দেখছে।মেয়েটা টুপ করে আদনানের গালে একটা চুমু খেলো।


শালুকের কি প্রচন্ড রাগ হলো,জানালার পর্দা টেনে দিয়ে  কোমর সমান লম্বা চুলগুলো শালুক কাঁ/চি দিয়ে কে/টে একেবারে ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে এলো। তারপর এক অজানা শোকে মাথার চুল খামচে ধরে কাঁদতে লাগলো। আদনান ভাই অন্য কারো এটা শালুক মানতে পারছে না কিছুতে।এই ধ্রুব সত্যিটা কেনো শালুকের সহ্য হচ্ছে না, শালুক জানে না।


বৃষ্টি থামলো দুইটা বাজার একটু আগে।শালুক তখনো ফুঁপিয়ে কাঁদছে।এতো কষ্ট হচ্ছে কেনো তার?

নিজের কান্না কিছুতেই শালুক সামলাতে পারছে না।মতির মা এসে শালুকের খুপরির দরজায় দুমদাম কিল মারতে লাগলো। তারপর চিৎকার করে ডেকে বললো, "সবাই খাইতে বসছে,বড় চাচায় আপনেরে ডাকে। তাত্তাড়ি আইতে কইছে,নয়তো ছোট আম্মা কইছে ঝাড়ু নিয়া আসবো আপনের জন্য।বিদেশি ভাবীর সামনে কি একটা বেইজ্জতি হইবেন আপা।আসেন তাত্তাড়ি।"


বিদেশি ভাবী!

শালুক করুণ হাসলো শব্দ দুটা শুনে।ভাবী!

বাহ!


মাথায় ভালো করে ওড়না পেঁচিয়ে শালুক মতির মা'র সাথে নেমে এলো নিচতলায়। বিশাল ডাইনিং টেবিলে ২৫ টা চেয়ার।শালুকদের যৌথ পরিবার।বাবারা তিন ভাই,তাদের ছেলেমেয়ে, দাদা দাদী, বিধবা বড় ফুফু,তার ছেলেমেয়ে নিয়ে বিশাল বড় সংসার তাদের।


শালুক যেতেই আশা বললো, "তুমি আমার পাশে বসো শালুক।"


বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে শালুক সরে গেলো। বড় চাচার পাশের চেয়ার খালি ছিলো শালুক সেখানে গিয়ে বসলো। মেয়েটার মুখে বাংলা কথা শুনে শালুক কিছুটা আশ্চর্য হয়েছে। 


টেবিলে আজ বিভিন্ন পদের খাবার সাজানো। সব কিছু আদনান আসবে উপলক্ষে করা।শালুকের একবার ইচ্ছে হলো, টেবিলে থাকা সব খাবার ছুঁড়ে ফেলে দিতে।

সাহসের অভাবে শালুক পারলো না। 

তবে অভিমান করে একটা কাজ করলো,নিজের অতি প্রিয় খাবারগুলো ও খেলো না।ডাল আর করলা ভাজি দিয়ে মেখে মেখে ভাত খেতে লাগলো। এক লোকমা ভাত খায় আর এক গ্লাস পানি খায়।শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো প্লেটে অর্ধেক ভাত রয়ে গেছে কিন্তু শালুকের পেটে আর জায়গা নেই।


শালুকের মা হাসনা সবাইকে খাবার সার্ভ করছেন,হঠাৎ করে তার নজর গেলো মেয়ের দিকে।

করলা দেখলেই যেই মেয়ে নাক সিটকায় সে কিনা করলা দিয়ে ভাত খাচ্ছে, অথচ কলিজা ভুনা,চিংড়ি ভাজা,ইলিশ মাছের ডিমের পাতুরি এসব তার সামনে রয়েছে। 


হাসনা মেয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন,"কি ব্যাপার শালুক,এসব কি?কি দিয়ে ভাত খাচ্ছিস?"


শালুক মাথা নিচু করে বললো, "খেতে ইচ্ছে করছে না মা।করলা তো কখনো খাই না,তাই আজ একটু চেখে দেখলাম।"


হাসনা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকালো। শালুক কিছু বলার আগে আদনান বললো, "ইলিশ মাছের ডিমের পাতুরির বাটিটা এদিকে দাও তো চাচী।আশার আবার মাছের ডিম ভীষণ ফেভারিট। "


হাসনা মেয়ের পাশ থেকে সরে আশার কাছে এলেন।শালুক ততক্ষণে উঠে চলে গেলো। 


নিজের রুমে গিয়ে বসে রইলো ঘূর্ণয়মান ফ্যানের দিকে তাকিয়ে। 


খাওয়ার পর শাপলা এলো শালুকের রুমে,শালুকের বড় বোন শাপলা।বিছানার উপর  পা তুলে বসে বললো, "কি হয়েছে শালুক?এরকম মনমরা হয়ে বসে আছিস কেনো? "


শালুক চোখের জল আড়াল করে বললো, "ভালো লাগছে না আপা।"


শাপলা মুচকি হেসে বললো, "কষ্ট হচ্ছে তাই না শালুক?আশাকে দেখে কষ্ট পাচ্ছিস?শোন শালুক,আদনান ভাই মানুষটাই এরকম।সবার মনকে ক্ষত-বিক্ষত করে দেওয়ায় ওস্তাদ। তুই জানিস না শালুক,মেয়েদের মন ভাঙ্গায় আদনান ভাইয়ের জুড়ি মেলা ভার।বড় ফুফুর মেয়ে নয়না আপা,আদনান ভাইকে কি ভীষণ ভালোবাসতো।আদনান ভাই ও তাতে সায় দিতো।সে হচ্ছে ধরি মাছ,না ছুঁই পানি টাইপের লোক।ওনার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দে শালুক।"


শালুক দাঁত দিয়ে নখ কামড়াতে লাগলো। শাপলা একটু সময় থেমে বললো, "আশা কে জানিস শালুক?আদনান ভাইয়ের খালাতো বোন।বড় চাচী সবসময় দেখিস না গল্প করে ওনার এক বোন আমেরিকায় থাকে এটা নিয়ে।আশা ওনার সেই বোনের মেয়ে।আশাকে বিয়ে করলে আদনান ভাইয়ের লাইফ  সেটেল হয়ে যাবে।তাছাড়া আশা তার বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে।বুঝিস-ই তো,চাচা চাচী কেনো এতো আদর যত্ন করছে।রাজত্ব, রাজকন্যা দুটোই পাবে আদনান ভাই।সেখানে তুই কি শালুক?তোর কোনো অস্তিত্ব আছে?"


শালুকের দুই চোখ আবারও অশ্রুসজল হয়ে গেলো। শাপলা বোনকে টেনে নিলো।শব্দ করে না কান্না করলেও শালুক টের পেলো আপাও কাঁদছে তার সাথে। 


বিকেলে চায়ের আসরে সবাইকে ডাকা হলো। আদনান সবার জন্য কি উপহার এনেছে তা দিবে সবাইকে।

অনিচ্ছাসত্ত্বেও শালুককে যেতে হলো, নয়তো মায়ের হাতের মার সব পিঠের উপর দিয়ে যাবে।


বাবা,চাচাদের জন্য আদনান ব্রান্ডের ঘড়ি আনলো।মা,চাচী,ফুফুদের জন্য সেইম ডিজাইনের শাড়ি। ছেলেদের জন্য বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট। মেয়েদের জন্য মেকাপ, কসমেটিকস আইটেম।

দাদার জন্য আনলো কয়েকটা ব্যথানাশক বাম,শীতের চাদর।দাদীর জন্য চাদর,রুপোর কাজ করা একটা পানের বাটি।

মতির মায়ের জন্য ও শাড়ি আনলো।


সবার শেষে একটা সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর বের করে শালুককে দিয়ে বললো, "এটা তোর জন্য।অংকে যাতে ফেইল না করিস তার জন্য এই ক্যালকুলেটর। একেবারে অরজিনাল।দাম কতো জানিস এর?"


বারবার ফেইল করার কথা তোলায় রাগ করে শালুক ক্যালকুলেটর আদনানের কোলের উপর ছুড়ে মেরে উপরে চলে এলো।

সিড়ি দিয়ে উঠার সময় শুনতে পেলো আদনান হেসে হেসে বলছে,"ফেলটুস আবার কেমন রাগ দেখায়,এই রাগ ফেলটু মেয়েদের মানায় না।"


শালুকের এতো লজ্জা লাগলো এসব শুনে।কিছু বলতে পারলো না। 

মনে মনে শপথ নিলো সে ও ভালো করে পড়ালেখা করে সবাইকে দেখিয়ে দিবে।


আদনান আসার খবর পেয়ে নয়না রাতেই শ্বশুর বাড়ি থেকে চলে এলো। আদনান তখন আশার হাত ধরে বাড়ির বাহিরে বাগানে হাটছে।এক বছরের মেয়ে নিধিকে কোলে নিয়ে নয়না আদনানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর হেসে বললো, "কেমন আছো আদনান ভাই? "


নয়নাকে দেখে আদনান ভুত দেখার মতো চমকে গেলো। নয়নাকে এই মুহুর্তে আদনান এক্সপেক্ট করে নি।নয়নার চ্যাপ্টার আমেরিকায় পা দেয়ার সাথে সাথে আদনান ক্লোজ করে দিয়েছে। 


শুকনো হেসে আদনান বললো, "ভালো আছি নয়না,তুই কেমন আছিস?এই কে তোর মেয়ে?খুব কিউট তো!"


নয়না বাঁকা হেসে বললো, "কিউট তো হবেই,আমি তো ফর্সা,মেয়ের বাবা ও ফর্সা।এজন্য আমার নিধিও এতো কিউট।"


নিধির নাম শুনে আদনানের বুক কেঁপে উঠলো। নয়নার সাথে প্রেম থাকাকালীন আদনান বলেছিলো,তাদের মেয়ে হলে নাম রাখবে নিধি,আর ছেলে হলে নাম রাখবে নিদ্র।

নয়না সেটা মনে রেখেছে দেখে আদনান লজ্জিত হলো।আশাকে সেটা বুঝতে না দিয়ে সহজ গলায় বললো, "ও আমার ফুফাতো বোন নয়না।"


আশা হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলো নয়নার সাথে। নয়নার বুকে এক অচেনা ব্যথা শুরু হলো। এই ব্যথা সে গত তিন বছর ধরে বুকে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে। 


আদনান আশার হাত ধরে বললো, "চলো বাসায় যাই।তোমার ক্ষিধে পেয়েছে নিশ্চয়। নাশতা করবে চলো।"


নয়না মেয়েকে কোলে নিয়ে আদনানের গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর বিড়বিড় করে বললো, "প্রতারক! "


চলবে.......

Next part 

Bangla Golpo pdf - বোকা প্রেমিকা পার্ট১৫ - bangla choti golpo - Love story - Life story

 

বোকা প্রেমিকা

পার্ট১৫

Bangla Golpo pdf - বোকা প্রেমিকা  পার্ট১৫ - bangla choti golpo - Love story - Life story
Bangla Golpo pdf - বোকা প্রেমিকা  পার্ট১৫ - bangla choti golpo - Love story - Life story 


প্রতিদিন সেই একই ভাবে বর্ষণকে ঘুম পাড়িয়ে জল রিশাদ আর সাদের ওপর নির্যাতন চালাতো।না খেয়ে থেকে নির্যাতন সহ্য করতে করতে করতে রিশাদ,সাদ দুর্বল হয়ে পরে।জল এমনটাই চেয়েছিলো।সে তার শ্বাশুড়ির থেকে শুনেছে চলে যাওয়ার আগে বলে বর্ষা ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করতো না। ক্ষতস্থান গুলোতেও পচন ধরেছে।এই মুহুর্তে রিশাদ আর সাদের কাছে মৃত্যুই শ্রেয়।প্রতিটি মুহুর্তে ওরা নিজেদের মৃত্যু কামনা করছে।একটা মেয়ে যে এত ভয়ানক আর নির্দয় হয়ে পারে জলকে না দেখলে বুঝতেই পারতো না রিশাদ সাদ।দেড়টা মাস ধরে জল অনেক নির্যাতন চালিয়েছে ওদের ওপর।জলেরও মনে হচ্ছে এবার ওরে মুক্তি দেওয়া দরকার।বাজার থেকে ধারালো ছুরি কিনে এনেছে জল।চকচকে ধারালো ছুরি।আলো পরলেই তার প্রতিফলন হয় ছুরিতে।

রাত তিনটা তেরো মিনিটে জল রিশাদের গলায় ছুরি চালিয়ে ওকে মুক্তি দেয়।চোখের সামনে বন্ধুকে এভাবে খুন হতে দেখে শিউরে ওঠে সাদ।গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট কর‍তে করতে সাদের চোখের সামনে মারা যায় রিশাদ।


" দেখেছিস?মৃত্যু কত ভয়ানক?"


কথাটা বলেই জল সাদের গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়।ছটফট করতে করতে দুনিয়া ছাড়ে সাদ।জল গুনে গুনে রিশাদ,সাদের দেহকে ছয় টুকরা করে।রাতের আধারে বাগানে দেহাংশ গুলো পুঁতে দেয়।পুঁতে দেওয়া দেহাংশগুলোর ওপরে রক্ত লাল গোলাপ গাছ লাগায় জল।চারাগুলোর প্রতিটাতেই একটা করে গোলাপ ফুটে ছিলো।জল পৈশাচিক কন্ঠে বলে,,,


" জানোয়ার গুলোর রক্ত শুষে নিয়ে তোরা আরও লাল হয়ে ওঠ।আরও সুন্দর হয়ে ওঠ।ভয়ংকর সুন্দর।"


_____________


বর্ষণ জলের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হয়নি।জল আগের মতোই বর্ষণের সাথে রুক্ষ আচরণ করে।এরমধ্যে জলের মা বাবা মারা যায়।জল খুব ভেঙে পরে।বাবা মারা যাওয়ায় জল মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়ে।জলের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী জলের বাবা মারা যাওয়ার পরে শাড়ি গয়নাগাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।বাবা মনে হয় বুঝতে পেরেছিলেন তার সময় নেই খুব একটা। মারা যাওয়ার আগে তিনি জলের জন্য একটা চিঠি লিখে গিয়েছিলেন।চিঠিটির প্রতিটা কথায় জল বাবার কাজের জন্য অনুতপ্ততা অনুভব করতে পারে।


 ঠিকই বলতে তুমি।আমাদের অতীতটা সুন্দর ছিলো।খুব সুন্দর।অশান্তির কোনো ছায়া ছিলো না আমাদের জীবনে।আমি ফিরোজাকে বিয়ে করেই অশান্তির সূচনা করি।আমার জন্যই তোমার জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায়।ফিরোজাকে বিয়ে করে যে আমি খুব সুখে ছিলাম তা কিন্তু নয়।অপরাধবোধে প্রতিটা রাত আমি ধুকে ধুকে মরেছি আর মরছিও।আমি জানতাম তুমি আমার জন্যই বাসায় থাকতে না।বেশিদিন বাঁচবো না মনে হয়।আমি মারা যাওয়ার পর দয়া করে তুমি এ বাড়িতে চলে এসো।


ইতি 

 তোমার বাবা নামক অপরাধী প্রাণী


জলের বাবার মৃত্যুর খবর শুনে জলের মা স্ট্রোক করে মারা যান।জল তার মাকে বাবার কবরের পাশে দাফন করার প্রস্তাব দেয়।কিন্তু জলের মায়ের স্বামী,আর জলের মামারা তাতে না কোচ করেন।জলের সেদিন খুব রাগ হয়।বিশেষ করে মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর ওপর।সেদিন রাতের আধারেই জল জলের মায়ের দ্বিতীয় স্বামীকে খুন করে।বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে।আর মানুষজন ভাবে স্ত্রী হারানোর শোকে সে মারা গেছে।এই রকম পরিস্থিতিতে জল বর্ষণের সহযোগিতা কাম্য করেছিলো।কিন্তু সে পায় বিপরীত জিনিসটা।বর্ষণ আবার নতুন করে আদিবার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে এবং সফলও হয়।জলও বিষয়টা জেনে ফেলে।একেরপর এক এমন ধাক্কা পাওয়ায় জল মানসিকভাবে আরও বিকারগ্রস্থ হয়ে পরে।পাগলামি বাড়তে থাকে।তবে তা শুধু অন্ধকার ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।বাবার অনুরোধ রাখতে জল পুরোনো বাড়িতে ফিরে যায়।জলের ঘরের পাশে এক বিশাল লাইব্রেরি ছিলো।জল বেশিভাগ সময় সেখানেই কাটাতে লাগে।এদিকে বর্ষণও নতুন ভাবে আসক্ত হয়ে যায় আদিবাতে।যা জল কিছুতেই মেনে নিতে পায় না।এভাবে জিততে জিততেও হেরে যাবে জল?তাও আদিবার কাছে?


_______


আজ ছুটির দিন।বর্ষণ বেশ বেলা করেই ঘুম থেকে উঠে।জল সকালে উঠে ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে কৌতুহল বশত বর্ষণের ফোনটা নেয়।ইনবক্সে ঢুকে আদিবা বর্ষণের চ্যাট পড়ে।চ্যাট পড়ে জানতে পারে আজ ওরা দেখা করতে যাবে। আগুনে ঘি ঢালার মতো জলের রাগ ক্ষোপ বেড়ে যায়।ফোনটা বর্ষণের পাশে রেখে জল নিজের ঘরে চলে যায়।আজ জল এর শেষ দেখেই ছাড়বে।এভাবে জিততে জিততে হেরে যাবে জল।সারাজীবন জল হেরেই এসেছে।শেষ বেলায় এসে জল ভেবেছিলো সে আদিবার কাছে জিতে গেছে। কিন্তু না সে হেরেই গেছে।আর হারতে আছেই সে।জল নিজের ঘরে গিয়ে চার পাঁচটা সিগারেট শেষ করে।এই প্রথম সে একসাথে এতগুলো সিগারেট খেলো।


বেশ স্বাভাবিক আচরণই করলো জল বর্ষণের সাথে।বর্ষণ তা আমলে নেয় নি।জলের স্বাভাবিক অস্বাভাবিক আচরণে সে বিরক্ত হয়ে গেছে।তাই এখন সেগুলোকে এড়িয়ে চলে।

বিকালের দিকে জল নিজের ঘরে গিয়ে শোয়।বর্ষণ এরই অপেক্ষায় ছিলো।বর্ষণ আলমারি থেকে জলের পছন্দের শার্টটা পড়ে।জল সজাগ ছিলো।পাশের ঘরে থাকায় বর্ষণের প্রতিটি পদক্ষেপ জল শব্দের মাধ্যমে আন্দাজ করতে পারে। বর্ষণ বেরিয়ে গেলে জলও ওর পেছন গাড়ি নিয়ে বের হয়।


ভার্সিটির কাছে একটা নির্জন মাঠ আছে।বর্ষণ আদিবা সেখানেই দেখা করে।আদিবা আগে থেকেই সেখানে বর্ষণের অপেক্ষায় ছিলো।বর্ষণকে দেখে সে উঠে দাঁড়ায়।


" কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো।"


" উইল ইউ মেরি মি আদিবা?"


হাত ধরে বলে বর্ষণ।আদিবা আকাশ থেকে পড়ে।ঝটকা দিয়ে নিজের হাত ছাড়িয়ে বলে,,,


" হোয়াট?তুমি বিবাহিত। তোমার বউ আছে।আমি কেন তোমায় বিয়ে করবো?"


" হ্যাঁ আমি বিবাহিত।আমার বউ আছে।কিন্তু আমি তাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবো।"


" একটা মেয়েকে তুমি বিনা কারণে কেন ডিভোর্স দেবে?একটা ডিভোর্সি মেয়ের সমাজে থাকা কতটা কষ্ট কর তুমি জানো?"


" ও সমাজ থেকেই বিচ্ছিন্ন।ওর মতো সাইকো মেয়ের সাথে সংসার করা যায়?"


" সেটা তোমার বিয়ে করার আগে ভাবা উচিত ছিলো বর্ষণ।একটা মেয়ের সংসার ভাঙার কারণ আমি কিছুতেই হতে পারবো না।"


" ওর সংসার ভাঙার কারণ ও নিজেই।এক বছর হলো আমাদের বিয়ে হয়েছে।এখন পর্যন্ত ও আমায় স্পর্শ পর্যন্ত করতে দেয় নি ওকে।আমার চাহিদা নেই?"


" তো তুমি কি আমায় তোমার শারী* রিক চাহিদা মেটানোর জন্য বিয়ে করছো?"


" তুমি শুধু আমার শারী*রিক নও মানসিক চাহিদাও আদিবা।"


" এসব তোমার মুখে মানায় না বর্ষণ।আমাকে বলা ত না ই ই। এগুলো তুমি জলকে বলো।আমাকে নয়।"


" প্লিজ আদিবা আমায় ফিরিয়ে দিও না।আমি অনেক আশা নিয়ে এসেছি।"


আদিবার হাত ধরে অনুরোধ করে।এরই মধ্যে জল ওদের মাঝে আসে।দুজনকে এভাবে দেখে জলের মাথায় রক্ত চড়ে যায়।ট্রাংকুলাইজার সাথেই নিয়ে এসেছিলো জল।রাগে তৎক্ষনাৎ বর্ষণের ঘাড়ে ইঞ্জেকশন বসিয়ে ট্রাংকুলাইজার পুশ করে দেয়।বর্ষণ অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।আদিবা বেশ ভয় পেয়ে যায়।ও তাজ্জব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই জল আদিবাকেও অজ্ঞান করে ফেলে। দুজনকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে জল।

দুজনকে লাইব্রেরিতে নিয়ে যায় জল।চেয়ারের সাথে শক্ত করে বাঁধে বর্ষণকে।তারপর মুখে পানির ছিটা দিয়ে সে বর্ষণের জ্ঞান ফিরায়।চোখ মেলে বর্ষণ নিজেকে লাইব্রেরিতে আবিষ্কার করে।সামনে আদিবা বুকশেলফে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে।পাশে জল।বর্ষণকে দেখেই জল মুচকি হাসে।বর্ষণ ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগে।


" কি হয়েছে সোনা?"


বর্ষণের দিকে ঝুঁকে বলে জল।বর্ষণ রাগে গজগজ করছে কিন্তু কোনো কথা বলছে না।জল আবার জিজ্ঞেস করে,,, 


" এনি প্রবলেম?"


" তুমি আদিবাকে ওভাবে রেখেছো কেন?"


" রেখেছি রেখেছিই।তোমার কি?ও তো তোমার কিছু হয় না।অহ ভুলেই তো গেছি।ও তোমার প্রেমিকা।প্রেমিকা এভাবে পরে আছে দেখেই দুঃখে কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে?আমি যে দিনের পর দিন কষ্ট পেয়েছি কই তখন তো আমার জন্য এভাবে কষ্ট পাও নি!"


বর্ষণ জলের কথার উত্তর খুঁজে পায় না।জল তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।বুকে দুঃখগুলো পাথর চাপা দিয়ে আবার বলে জল,


" দিনের পর দিন কষ্ট দিয়ে গেছো আমায়।ঠকিয়ে গেছো আমায়।কিচ্ছু বলিনি।বিয়ে করে নিয়েছিলাম নিজের করে তোমায় পাওয়ার জন্য।কিন্তু তাতেও আমি ব্যর্থ।তুমি শুধরে যাও নি।অনেক সুযোগ দিয়েছি তোমায়।আজ হয় আমি থাকবো নয় আদিবা থাকবে।কাকে চাও তুমি?"


বর্ষণ নিশ্চুপ।জল ধারালো ছুরি বের করে।চোখের পলকেই ছুরিটা চালিয়ে দেয় আদিবার গলায়।ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে লাগে।বর্ষণ চিৎকার করে ওঠে।আসতে চায় সে আদিবার কাছে কিন্তু সে ব্যর্থ।জল যে তাকে শক্ত করে চেয়ারের সাথে বেঁধে রেখেছে! আদিবার দেহটা শান্ত হয়ে গেলে জল ওর শরীর থেকে চামড়া আলাদা করে।বর্ষণ এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে বেশ কয়েকবার জ্ঞান হারায়।চামড়া ছাড়িয়ে জল এইবারও আদিবার দেহটাকে ছয় টুকরা করে।বর্ষণের সামনে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে দেহাংশ গুলো।যেখানে বর্ষণ হেমোফোবিয়ায় আক্রান্ত।সামান্য রক্ত দেখলেই সে ভয় পেয়ে যায়।সেখানে তাজা রক্ত ঝড়া প্রিয় মানুষের দেহাংশ দেখে বর্ষণ প্যানিক অ্যাটাক করে।জল আবারও পানির ছিটা দিয়ে বর্ষণের জ্ঞান ফিরায়।বর্ষণের দিকে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলে,,,


" ডু ইউ লাভ মি?"


" আই হেট ইউ।আমি ঘেন্না করি তোমায়।তুমি এত নিচে নামতে পারো?ছি জল ছি।"


তীব্র ঘৃণা নিয়ে বলে বর্ষণ।জল তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।বর্ষণের বাঁধন খুলে দেয় সে।রক্ত মাখা ছুরিটা বর্ষণের হাতে দিয়ে বলে,,,,


" আচ্ছাহ!যেহেতু তুমি আমায় ঘৃণায়ই করি তাই আমি মনে করি আমার বেঁচে থাকার কোনো দরকার নেই।কিল মি বর্ষণ।"


বর্ষণ চুপ।ওর হাত পা কাঁপছে।জল চিৎকার দিয়ে বলে,,,


" কাম অন বর্ষণ হিট মি,কিল মি।"


বর্ষণ এবারও চুপ।জল ছুরিটা বর্ষণের হাত থেকে নিয়ে পেটের ভেতর ঢুকিয়ে দেয় জল।ক্ষতস্থান দিয়ে স্রোতের মতো রক্ত বের হতে লাগে।তা দেখে বর্ষণ আবার প্যানিক অ্যাটাক করে।জল সে ক্ষত নিয়েই নিজের ঘরে যায়।গিয়ে ঘরের দরজাটা আটকে দেয় জল।


পরের দিন বর্ষণের জ্ঞান ফিরে।চোখ মেলে কাজের মহিলা,পুলিশকে দেখতে পায় বর্ষণ।জ্ঞান ফিরতেই কাজের মহিলার প্রশ্নের সম্মুখীন হয় বর্ষণ।


" ভাইজান!আপনে অজ্ঞান হইছিলেন ক্যা?আফা কই?আর এইন্না কার শইলের টুকরা?"


মহিলা আরও কিছু জিজ্ঞাস করতে যাচ্ছিলেন কিন্তু অফিসার তাকে থামিয়ে দেয়।কনস্টেবল এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেয় বর্ষণের দিকে।বর্ষণ ঢোক ঢোক করে সব পানি খেয়ে নেয়।তারপর পুলিশ তার কাছে গতকালের পুরো ঘটনা শুনতে চায়।বর্ষণ সব বলে দেয়।সবটা শোনার পর পুলিশ জলকে খুঁজতে লাগে।সারা লাইব্রেরি খুঁজে পুলিশ বর্ষার সেই ডায়েরীটা পায়।মানুষ নাকি গোপন অনেক কথা ডায়েরীতে লিখে রাখে।তাই পুলিশ তথ্য পেতে ডায়েরিটা পড়তে লাগে।পুলিশের পড়া হয়ে গেলে বর্ষণকে দেয় তারা ডায়েরীটা পড়ার জন্য।


৯-১১-২১

আজ রিশাদ,সাদকে খুন করলাম।বর্ষার ধর্ষকদের খুন করলাম।খুবই নির্মম ভাবে মেরেছি।যাতে বর্ষার কষ্ট গুলো ওরা একটু হলেও অনুভব করতে পারে।তারপর কেটে টুকরো টুকরো করে পুঁতে দিয়েছি।সেগুলোর ওপর লাল টুকটুকে গোলাপের চারা লাগিয়েছি।ওদের রক্ত শুষে গোলাপগুলো আরও সুন্দর হয়ে উঠুক।


১৫-১১-২১

বাবাকে হারালাম আজ।যদিও অনেক রাগ ক্ষোপ ছিলো মানুষটার ওপর।তারপরও বাবা তো!


১৭-১১-২১

বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হলেও একেঅপরের প্রতি ভালোবাসার মৃত্যু হয়েছিলো না বোধহয়। তাই মাও আমায় একা করে বাবার কাছে চলে গেলো।বাবা পাশে মাকে দাফন কর‍তে চেয়েছিলাম কিন্তু মায়ের দ্বিতীয় স্বামী তা মানে নি।তাই শেষ করে দিই লোকটাকে।বালিশ চাপা দিয়ে মারি অথচ মানুষ ভেবেছে আমার মায়ের শোকে লোকটা মারা গেছে।হাস্যকর।


২০-১২-২১

আজ হয়তো আমার শেষ দিন এই দুনিয়ায়।পেটের ক্ষতস্থান থেকে অনবরত রক্ত ঝড়ছে।বিশ্বাস করেছিলাম বর্ষণকে কিন্তু ও এর ভার সইতে পারলো না।আদিবার সাথে সে বিয়ের পরও রিলেশনটা কন্টিনিউ করে।ভাগ্যিস সব জেনেছিলাম।হাতেনাতে ধরেছি দুটোকে।আদিবাকে মেরে বর্ষণকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ও আমায় ভালোবাসে কিনা।ও না বলেছে।মা-বাবার পরে ওকেই আপনজন ভেবেছিলাম সে যখন আমায় ঘৃণা করে তাহলে বেঁচে থাকার আমার দরকারটা কি?তাই শেষ করে দিলাম নিজেকে।ভালো থেকো বর্ষণ।আর আমায় ক্ষমা করে দিও।


ডায়েরীটা পড়ে বর্ষণ হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।বর্ষার খুনীদের জল এভাবে শাস্তি দিলো তারপরেও বর্ষণ জলের সাথে এমন আচরণ করেছে।একটু ভালো থাকার জন্য সেই আদিবার হাত ধরতে চেয়েছিলো।কখনো ভেবে দেখেনি জল আদো ভাও আছে কি না!আজ এই পরিস্থিতির জন্য বর্ষণই দ্বায়ী।আদিবাকেও দুনিয়া ছাড়তে হলো জলকেও।শুধুমাত্র বর্ষণের জন্য। 

পুলিশ রক্তের ছাপ অনুসরণ করে জলের ঘরের দিকে যায়।দরজা বন্ধ।ভাঙতে হবে।দরজা ভেঙে পুলিশ যা দেখে তারজন্য পুলিশ মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।পুরো ঘর রক্তে মাখামাখি।দেয়ালে লেখা জল,মা-বাবার সুখের সংসার।দুটো কংকালের মাঝখানে ঘুমিয়ে আছে জল।কংকাল দুটো জলের বাবা-মায়ের।ছোটবেলার মতো বাবা-মায়ের মাঝখানে ঘুমিয়ে আছে জল।বর্ষণ হুমড়ি খেয়ে পড়ে মৃত জলের ওপর।পুরো শরীর ঠান্ডা জলের।বর্ষণ জলকে জড়িয়ে কাঁদছে। কনস্টেবল বর্ষণকে সামলায়।বর্ষণ কাঁদছে।চিৎকার করে কাঁদছে।কিন্তু কান্নার আওয়াজ কারও কানে পৌঁছাচ্ছে না।না জলের কানে না আদিবার কানে।


সমাপ্ত


Next STORY 


Bangla Golpo - বোকা প্রেমিকা পার্ট১৪ - banhla choti - love story - life story

বোকা প্রেমিকা

পার্ট১৪

Bangla Golpo - বোকা প্রেমিকা পার্ট১৪ - banhla choti - love story - life story
Bangla Golpo - বোকা প্রেমিকা পার্ট১৪ - banhla choti - love story - life story 


নিস্তব্ধ গভীর রাত।বর্ষণকে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে গ্যারেজে এসেছে জল।রিশাদ আর সাদ তখন বাঁধা অবস্থায়ই ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।দুজনকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে জলের মেজাজ বিগড়ে যায়।রাগে সজোরে লাথি মারে সাদ আর রিশাদকে।ঘুমন্ত অবস্থায় লাথি খেয়ে চমকে উঠে সাদ, রিশাদ। ঘুম ঘুম চোখে গ্যারেজের লাইটের আবছা আলোয় কোনো রমনীর ছায়া দেখতে পায় রিশাদ,সাদ।রমনীর হাতে বড় আকারের ছুরি।এমন ভাবে সে ছুড়ি ধরে আছে যেন এক্ষনি ওই ছুরি দিয়ে রিশাদ আর সাদকে আঘাত করবে।রিশাদ আর সাদকে জল যেখানে রেখেছিলো সেখানে রয়েছে বিষাক্ত লাল পিঁপড়ের বাসা।সেগুলো কামড়ের জ্বালায় রিশাদ, সাদ গোঙাচ্ছে।চিৎকার করতে চাইছে তারা কিন্তু পারছে না।মুখে কাপড় ঢুকিয়ে স্কচটেপ লাগিয়ে দিয়েছে যে জল।চিৎকার করবে কিভাবে?জল যে ওদের সেখানে ভুল করে রেখেছে তা নয়!ইচ্ছে করেই জল ওদের ওখানে রেখেছে।পৃথিবীর সবচে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু দিতে চায় ওদের জল।তার জন্যেই ত যত্ন করে ওদের জন্য একটা স্পেশাল চেয়ার বানিয়েছে জল।নিজ হাতে বানিয়েছে সে চেয়ারটা।যাতে সাদ,রিশাদ আরামে ওদের শাস্তি ওদের মৃত্যুযন্ত্রণা উপভোগ করতে পারে।


কাঠের তৈরি চেয়ারে গুনে গুনে প্রায় পনেরো সুচালো লোহা মেরেছে জল।শুধুমাত্র রিশাদ আর সাদকে শাস্তি দেবে বলে।এটি ইতিহাসের ভয়ংকর শাস্তি গুলোর মধ্যে একটি।চেয়ার অফ টর্চার বা চেয়ার অফ পানিশমেন্ট নামে এই শাস্তি পরিচিত।পনেরোশো সাল থেকে শুরু করে আঠেরোশো সাল পর্যন্ত চীন এবং ইউরোপে এই ভয়ানক সাজা দেওয়া হতো।ধর্ষণের আসামীদের এই সাজা দেওয়া হতো।যারা কালো যাদু করতো তাদেরও এই সাজা দেওয়া হতো।ছোট খাটো আসামিদের সামনে এই ভয়ানক সাজা দেওয়া হতো।যাতে শাস্তির ভয়াবহতা দেখে আসামিরা পরবর্তীতে বড় ধরণের অপরাধ করার সাহস না পায়।শাস্তির জন্য আসামিকে লোহা মারা চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হতো।তারপর কিছু স্ক্রু দিয়ে আসামিকে চেয়ারের সাথে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হতো যাতে ধারালো সুচালো লোহা গুলো আসামীর শরীরে ঢুকে যায়।জলও ঠিক সেই ভাবেই চেয়ারটা বানিয়েছে।

জল রিশাদকে প্রথমে চেয়ারটাতে বসায়।ধারালো সুচালো লোহার আঘাতের যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলে।কার্ণিশ বেয়ে কিছু নোনা জলের বিন্দু কণা জলের বাহুতে পরে।কিন্তু জলের তাতে রিশাদের প্রতি একটুও মায়া মমতা হয় না।তারপর স্ক্রু গুলো দিয়ে শক্ত করে রিশাদকে চেয়ারে বসিয়ে দেয়।ইতিমধ্যে রিশাদ শাস্তি পেতে শুরু করেছে।সুচালো লোহা গুলো চামড়া ভেদ রিশাদের শরীরে ঢুকে গেছে।রিশাদ চিৎকার করছে যন্ত্রণায় আর জল তা উপভোগ করে পৈশাচিক হাসি হাসছে।শাস্তি ভোগ করবে আর চিৎকার করবে না?কিন্তু এই চিৎকারে যদি বর্ষণের ঘুম ভেঙে যায়!সারাদিন অফিস করে বেচারাটা শান্তিতে ঘুমাতেও পারবে না?বর্ষণ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে তাই ই তো জল রাতের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বর্ষণকে খাইয়ে দিয়েছে।


নারীদের মানুষ সর্বদায় মায়া,মমতার আধার রূপে দেখে এসেছে।এগুলো নারীর গুণ।ছলনাটা নারীর দোষ।তাই নারীকে মানুষ যেভাবে মায়াবী,মমতাময়ী হিসাবে চিনে ঠিক সেই ভাবে ছলনাময়ী হিসেবেও চিনে।কিন্তু জলকে দেখে মায়াবী,মমতাময়ী নারীর কথা ভুলে গেছে রিশাদ আর সাদ।একটা মেয়ে এত নির্দয় আর কঠিন হৃদয়ের যে হতে পারে তা জলকে না দেখলে বুঝতেই পারতো না রিশাদ,সাদ।


রিশাদ চিৎকার করছে। রিশাদের চিৎকারে জল কোনো আনন্দ পাচ্ছে না।আগে থেকেই সে কয়লা নিয়ে এসেছিলো সেগুলো আগুনে গরম করে জল।জলন্ত কয়লা বর্ষণের কোলে ফেলে দেয়।বর্ষণ চিৎকার করতে লাগে।জল বর্ষণের যন্ত্রণা দেখে পৈশাচিক হাসি দেয়।জল রিশাদের সামনে গিয়ে চোখ উল্টিয়ে পৈশাচিক হাসি দিয়ে বলে,,


" খুব কষ্ট হচ্ছে না?বর্ষারও খুব কষ্ট হয়েছিলো যখন তুই ওর বিশ্বাস নিয়ে ওর ইজ্জত নিয়ে খেলেছিলি।"


" বর্ষা?"


" হু,বর্ষা।আমার বোন বর্ষা।শুধুমাত্র তোদের জন্য ওকে এই দুনিয়া ছাড়তে হয়েছে।ভাবলি কিভাবে ওকে কষ্ট দিতে তোরা সুখে থাকবি।ওকে যেমন ভেতর থেকে তিলে তিলে মরতে হয়েছে তোদেরকেও আমি ঠিক সেই ভাবে তিলে তিলে মারবো।মৃত্যু কত যন্ত্রণাদায়ক আর কঠিন বুঝবি তোরা।এটা তো টেইলার।সামনে আরও ভয়ানক শাস্তি আছে তোদের জন্য।"


" বর্ষা তো ওর বোনের কথা কখনো বলে নি।"


" বলে নি দেখেই তো তোরা টোপ গিলেছিস।"


কথাটা বলে জল সিগারেট ধরায়।দুটো টান দিয়ে জলন্ত সিগারেট রিশাদের ঘাড়ে আলতো করে ছোঁয়ায়।ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে রিশাদ।জল পৈশাচিক হাসি দেয়।জল ঘড়ি দেখে।দুটো বেজে গেছে।এখন সাদের পালা।ভাগ করে নিয়েছিলো জল সময়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রিশাদের তখন যাওয়ার দশা।জল টেনে হিঁচড়ে রিশাদকে চেয়ার থেকে উঠায়।তারপর মেঝেতে রেখে শক্ত করে বাঁধে।যদিও নারী হয়ে গায়ে এত জোর থাকার কথা বা জলের।কিন্তু প্রতিশোধের আগুন জলকে শক্তিশালী করে দিয়েছে।রিশাদকে বাঁধা হয়ে গেলে জল সাদকে চেয়ারে বসায়।সেই একই ভাবে।সাদ যন্ত্রণায় কুঁকড়ে ওঠে।তারপর বর্ষা ডান হাতে লবণ নেয় আর বাম হাতে জলন্ত কয়লা।বাম হাতের কয়লাগুলো সাদের কোলে দেয় আর লবণের ছিটা দেয় রিশাদের ওপর।দুইজনেই কুঁকড়ে ওঠে যন্ত্রণায়। জল আবারও পৈশাচিক হাসি দেয়।ভোর হয়ে গেলে জল দুজনকে আবার আগের অবস্থায় রেখে,গ্যারেজে তালা দিয়ে ঘরে চলে।


________


বর্ষণ খুব চুপচাপ হয়ে গেছে।বর্ষার ছেড়ে যাওয়া সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।খাওয়া,দাওয়া সব কিছুতে ওর অনিহা।সব সময় মন মরা হয়ে থাকে।জলের বর্ষণকে দেখে খুব মায়া হয়।জলের উচিত বর্ষণকে একটু হলেও সময় দেওয়া।মানুষ হিসাবে জলের এটা দায়িত্ব। যতই খারাপ থাকুক জলের কাছে বর্ষণ।সেও তো মানুষ। দুঃখ কষ্ট ওরও তো আছে।বর্ষণ টেবিলে বসে ভাতে আঙুল ঘোরাচ্ছিলো। জল বর্ষণের কাছে যায়।কাঁধে হাত রাখে।


" খাচ্ছো না যে?"


" বর্ষার কথা খুব মনে পড়ছে।কেন করলো ও এমন?"


" নিশ্চয়ই কোনো কারণে এমনটা করেছে।দেখো যাদের কারণে আল্লাহ তাদের ঠিকই শাস্তি দেবেন।তুমি খেয়ে নাও।"


" ভাত আমার গলা দিয়ে নামে না জল। প্রতিটা মুহুর্তে আমি বর্ষাকে মিস করছি।"


" করবেই তো।কিন্তু মেনে নিতে হবে মানুষ মাত্রই মরণশীল।"


" তাই এভাবে চলে যাবে বর্ষা?"


জল বর্ষণের প্রশ্নের উত্তর খুজে পায় না।পাশের চেয়ারে বসে ভাত মাখিয়ে বর্ষণের মুখের সামনে ধরে জল।বর্ষণ করুণ দৃষ্টিতে জলের দিকে তাকিয়ে থাকে।বর্ষণের চাহনি দেখে জল দুর্বল হয়ে যায়।কি নিষ্পাপ চাহনি!জল নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,,,


" খেয়ে নাও।বর্ষার খুনীদের শাস্তি দেখার জন্য হলেও তোমায় বাঁচতে হবে।"


" খুনী?"


" একটা হাসি খুশী চঞ্চল মেয়ে তো এমনি এমনি আত্মহত্যা করবেনা।নিশ্চয়ই কেউ বর্ষাকে আত্মহত্যা কর‍তে বাধ্য করেছে।"


" কেস তো করতে চেয়েছিলাম।তুমিই তো না করলে।"


" কয়টা কেসের বিচার হয়েছে বলবে আমায়?শুধু শুধু টাকা নষ্ট।"


" বর্ষার জায়গায় তোমার বোন হলে কথাটা বলতে পারতে?"


" বর্ষাকে আমি নিজেই বোনের মতোই দেখি বলে কথাটা বললাম।অনেক কথা বলেছো এবার খাও।"


কথাটা বলে জল বর্ষণের মুখের সামনে ভাত এগিয়ে দেয়।বর্ষণ নোনাজল চোখে নিয়ে ভাত খায়।এ কান্না খুশীর কান্না নাকি দুঃখের কান্না বর্ষণ বুঝতে পারছে না।জলকে আজ বর্ষণ নতুন রূপে দেখলো।মমতাময়ী জল।বর্ষণ ঠিকই ভেবেছিলো।জল রুক্ষতার শক্ত খোলসে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছে।


চলবে,,ইনশাআল্লাহ 


Next part 


Bangla Golpo - বোকা প্রেমিকা পার্ট১৩ - bangla choti golpo - love story - life story

বোকা প্রেমিকা

পার্ট১৩

Bangla Golpo - বোকা প্রেমিকা  পার্ট১৩ - bangla choti golpo - love story - life story
Bangla Golpo - বোকা প্রেমিকা  পার্ট১৩ - bangla choti golpo - love story - life story 


বর্ষা নিয়মিত ডায়েরি লিখতো।আর এই কথাটা জল ছাড়া কেউ জানতো না।এমনকি বর্ষণও না।বাইরে পড়ে আছে বর্ষার নিথর দেহ।বর্ষা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।আর এর কারণ সম্পুর্ন অজানা।কি কারণে বর্ষা এমন সিদ্ধান্ত নিলো কেউ ই খুঁজে পাচ্ছে না।পুলিশ এসেছিলো।বর্ষার পুরো ঘর তারা সার্চ করেছে।চিরকুট,সুইসাইড নোট কিচ্ছু পায় নি পুলিশ।থানায় অপমৃত্যুর মামলা করতে বলেছে।কিন্তু জলের মন বলছে অন্যকিছু।বর্ষা এভাবে এমন পথ বেছে নেওয়ার মেয়ে নয়।হাসিখুশি চঞ্চল মেয়েটা হুট করেই এভাবে দুনিয়া ছেড়ে দেবে? জল বর্ষণের ঘরের আলমারির ওপরে উঁকি দিতে লাগে।বর্ষা বলেছিলো বর্ষণ চলে যাবার পর থেকে সে এখানেই তার গোপন ও ব্যক্তিগত জিনিসগুলো রাখে।লম্বা হওয়ায় খুব ইজিলি আলমারির ওপরে থাকা খয়েরী রঙের মলাটের ডায়েরীটা দেখতে পায়।খুব সহজে পেরেও নেয় সে।জল ডায়েরীটা খুলে পড়তে শুরু করে।ফিতে দিয়ে মার্ক করা অংশটুকু থেকেই সে পড়তে শুরু করে।


' আমি জানতাম আপু ডায়েরীটা তুমি খুঁজবে আর পেয়েও যাবে।এখন আমি তোমাদের থেকে অনেক দূরে।বিশ্বাস করো এত তাড়াতাড়ি আমি তোমাদের থেকে দূরে চলে আসতে চাই নি।কিন্তু ওরাও আমায় বাঁচতে দিলো না। মরতে কেউ ই চায় না।আমিও তার ব্যাতিক্রম নই।বাঁচার মতো বাঁচতে চেয়েছিলাম।কিন্তু ওরা আমায় বাঁচতে দিলো না।প্রতিটা মুহুর্তে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। সবসময় মনে হতো আমি মরতে পারলে বাঁচি।তুমি আমায় পই পই করে না করেছিলে যাতে আমি আবেগের বশে কোনো ভুল কাজ না করি।কিন্তু আমি তাই ই করে ফেলি।আবেগের বশে একটা সম্পর্ক টেকানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আমি রিশাদের রু*ম ডেটের প্রস্তাবে রাজি হই।রিশাদকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম।আর এর সুযোগ নিয়েই রিশাদ আর ওর বন্ধু আমার ইজ্জতহানি করে।আমায় ধ*র্ষণ করে।এতটুকুতেও ওরা থেমে যায় নি।সেদিনের ধ*র্ষণের ভিডিও ফোনে ধারণ করে দিন রাত আমায় ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।আবার ওদের লালসা মেটাতে হবে আমার।আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না।ওভাবে থাকা আমার জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিলো।তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম।

তোমরা আমায় ভুল বুঝো না আপু।মরতে কেউ চায় না আপু।আমি বাঁচার মতো বাঁচতে চেয়েছিলাম।কিন্তু ওরা আমায় বাঁচতে দেয় নি।'


জল দীর্ঘশ্বাস ফেলে।জল ডায়েরিটা নিয়ে নেয়। বাইরে বর্ষার দেহ ধরে এখনো মা অঝোর ধারায় কাঁদছে।বর্ষণ দূরে দাঁড়িয়ে বোনের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছে। বর্ষাকে দাফন করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়।সেদিন রাতে বর্ষণ ঘুমায় নি। ঘরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগে।ভাইদের কাছে নাকি বোনেরা কলিজার টুকরা হয়।সেই হিসাবে বোনের মৃত্যুতে বাচ্চাদের মতো হাউমাউ করে কাঁদা অস্বাভাবিক কিছু না।এই প্রথম জল বর্ষণকে কাঁদতে দেখলো।অনেকটাই মায়া হচ্ছে বর্ষণের প্রতি জলের।কিন্তু যখন বর্ষণের বিশ্বাসঘাতকতার কথা মনে পরে তখনই বর্ষণের প্রতি জলের সব মায়া নিমিষেই উধাও হয়ে যায়।জলও সেদিন ঘুমায়নি।রাত জেগে বর্ষার পুরো ডায়েরীটা পড়ে।যদি রিশাদ বা ওর বন্ধু সম্পর্কে কোনো আইডিয়া পায়!


২২-৯-২১


লিস্টে একটা ছেলে ছিলো।নাম রিশাদ আহমেদ।ও প্রায়ই আমার ডে তে রিপ্লাই দিতো।সেখান থেকেই টুকটাক কথা হতো।ওর সাথে আমার বেশ একটা ভালো সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।সেটা পরে প্রেমে রূপ নেয়।আজ আমাদের সম্পর্কে তিন মাস পূর্ণ হলো।বুঝতেই পারিনি কিভাবে ওর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছি।দেখতে দেখতে তিনটে মাসও হয়ে গেলো।


এই অংশটুকু পড়ে জলের কেন যেন মনে হলো রিশাদ প্লে বয় টাইপের ছেলে। জল বর্ষার আইডি ঘাটতে থাকে।আইডি ঘেটে অবশেষে সে রিশাদের আইডি পায়।বায়ো দেখেই বুঝতে পারে জল এই ছেলে পাক্কা প্লে বয়।বর্ষা বাচ্চা মেয়ে।তাই না বুঝে ছেলেটার ফাঁদে পা দিয়েছিলো।পরে শেষমেশ জীবনটাই দিয়ে দিলো।ছেলেটার দুর্বলতা যেহেতু মেয়ে।তাই জল নিজের ডিপিতে কোনো মডেলের শাড়ী পরা আকর্ষণীয় ছবি দেয়।দীর্ঘদিন পর সে ডিপির ছবিটা চেঞ্জ করলো।রিশাদকে সে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠায়।এবং রিশাদ তা সাথে সাথে একসেপ্ট করে।এইত্তো রিশাদ জলের ফাঁদে পা দিয়েছে।এখনই মেসেজ দিলে বিষয়টা খুব সন্দেহজনক হবে।ঠান্ডা মাথায় ধীরে সুস্থে সব করতে হবে।আর যাই হোক রিশাদ আর সাদকে জল ছাড়ছে না।বর্ষার মৃত্যুর প্রতিশোধ জল নিয়েই ছাড়বে।


১১-১১-২১

আজকে রিশাদের সাথে ফার্স্ট মিট করতাম।একই এলাকায় থাকা সত্ত্বেও ওকে কখনো আমি সামনাসামনি দেখি নি।আজই প্রথম।অনেকটাই নার্ভাস ছিলাম।ফার্স্ট মিট বলে কথা!ওকে এক পলক দেখেই আমি দৌড়ে চলে আসি।


এই অংশটুকু পড়ে জলের অতীত মনে পড়ে যায়।সম্পর্ক হওয়ার পরে জল আর বর্ষণের প্রথম দেখার সময় জলও ঠিক ওভাবেই ঘাবড়ে গিয়েছিলো।প্রেমিকের সাথে প্রথম দেখা মনে হয় সব মেয়েদেরই নার্ভাসের মধ্যে হয়ে থাকে।এতকিছুর পরেও মেয়েদের কাছে প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম দেখার দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকে।

_______


রিশাদের সাথে জল ইদানীং বেশ অনেকটাই ভাব করে ফেলেছে।প্রায়ই কথা হয় ওদের।আজ জল রিশাদের সাথে দেখা করতে যাবে।সাথে সাদেরও আসার কথা।জল আগে থেকেই ট্রাংকুলাইজার কিনে রেখেছিলো।এই সামান্য অজ্ঞান হওয়ার ইঞ্জেকশনটা কিনতে জলের কম খাট খোড় পোড়াতে হয় নি! এটি কিনতে গেলে সরকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা সরকারি অফিসারদের সাথে যোগাযোগ করা লাগে।কিন্তু জল ইঞ্জেকশনটা চোরাই পথে কিনেছে। তাই বেশ অনেকটাই টাকা খরচ করতে হয়েছে জলকে। জল রিশাদকে অনেকটা নিরিবিলি জনশূন্য স্থানে আসতে বলে। রিশাদ জলের বলা জায়গায় সাদকে নিয়ে আসে।জলের জ্যামের কারণে কিছুটা দেরি হয়ে যায়।গিয়ে দেখে রিশাদ আর সাদ সেখানে জলের জন্য অপেক্ষা করছে।জল গাড়ি থেকে নেমে ইঞ্জেকশন দুটো ওড়না দিয়ে আড়াল করে ওদের কাছে যায়।জলকে দেখেই রিশাদের মনে ধরে যায়।এমন লম্বা মেয়ে সচারাচর খুব একটা দেখা যায় না।যদিও জল শ্যামলা।কিন্তু ওর লম্বা হওয়াটা ওর শ্যামলা হওয়ার দোষটাকে ঢেকে দিয়েছে।জল আহামরি কোনো সুন্দরী নয়।শুধু লম্বা। যা ই ই রিশাদকে দুর্বল করে দিয়েছে।রিশাদের হাবভাব দেখে জল বুঝতে পারে ওর প্রেমের অভিনয়ে রিশাদ গলেছে।প্রাথমিক খোশগল্প করে রিশাদ জলকে নিয়ে দূরে কিছু কথা বলার অনুরোধ করে।জল ত এই সুযোগের অপেক্ষায়ই ছিলো।মনে মনে একটা পৈশাচিক হাসি দেয় জল। রিশাদ জলকে নিয়ে ঝোপের আড়ালে যায়।


" বলো কি বলবে?"


" If you don't mind...! can I kiss you?"


" Why not..!তুমি তো আমায় বয়ফ্রেন্ড।আমার ওপর তোমার অধিকার আছে।"


জলের কথাটা শেষ হতে না হতেই রিশাদ ঝড়ের গতিতে জলের কোমল ঠোঁট খানা নিজের ঠোঁটের দখলে করে নেয়।আকষ্মিকতায় জল খানিকটা চমকে গিয়েছিলো। পরে সে নিজের স্বাভাবিক হয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে লাগে।রিশাদ যখন পুরোপুরি ভাবে জলের কোমল ঠোঁটের মাঝে ডুবে যায় ঠিক তখনই জল ট্রাংকুলাইজারটার ভরা ইঞ্জেকশনটা রিশাদের ঘাড়ে বসিয়ে পুশ করে নেয়।রিশাদ মাটিতে পরে যায়।মিনিট দশেকের মধ্যে সে অচেতন হয়ে যায়।এবার সাদের পালা।জল ঝোপের আড়াল থেকে দেখে সাদ কারো সাথে ফোনে কথা বলায় মগ্ন।ব্যস!এই সুযোগ আর হাতছাড়া করা যাবে না।জল গিয়ে সাদের ঘাড়েও ইঞ্জেকশন বসিয়ে ট্রাংকুলাইজার পুশ করে দেয়।মেডিসিনের প্রভাবে সাদও অচেতন হয়ে যায়।জল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। গাড়ি থেকে দড়ি বের করে দুটোকে বেঁধে গাড়িতে তোলে জল।মুখে টুকরো কাপড় ঢুকিয়ে দিয়ে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয় জল।সিনেমা নাটকে দেখায় যে মুখে স্কচটেপ লাগালে মানুষ মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ করতে পারে না।ভুল জিনিস দেখানো হয়।স্কচটেপ লাগানোর পরও মানুষ আওয়াজ করতে পারে। তাই জল মুখে কিছু কাপড়ের টুকরো দিয়ে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়।যাতে ওরা কোনো আওয়াজ না করতে পারে।

জলের প্রচন্ড অপরাধবোধ হচ্ছে। যে কাজটা জল আজ পর্যন্ত বর্ষণকে করতে দেয় নি সেই কাজটা আজ রিশাদকে কর‍তে দিয়েছিলো।সে ঠকালো না তো বর্ষণকে?ঠকলে ঠকলো বর্ষণ!সেও তো জলকে কম ঠকায়নি।বর্ষণ জলের থেকে এগুলোই ডিজার্ভ করে। অপরাধবোধ কাটাতে দুটো সিগারেট ধরায় জল।ভেতরের অনুভূতি গুলোকে ধোঁয়া করে মুক্ত বাতাসে ছেড়ে সে বাসার দিকে রওনা দেয়।

বাসায় ঢোকার সময় জলের বর্ষণের সাথে দেখা হয়।বর্ষণ অফিস থেকে ফিরছিলো।জলকে দেখে সে প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে।


" কোথায় গিয়েছিলে?"


" বাইরে।একটা কাজ ছিলো ওই কাজটা কর‍তেই মুলত গিয়েছিলাম।"


কথাটা বলে জল গাড়ি নিয়ে গ্যারাজের দিকে যায়।গাড়িটাকে পার্কিং করে গ্যারাজের এক কোণায় রিশাদ আর সাদকে রাখে।পকেট থেকে ফোন বের করে সীম,মেমোরি টাকে নষ্ট করে ফেলে।ফোন দুটোকে ইট দিয়ে থেঁতলে পাশে থাকা নর্দমায় ফেলে দেয়। সাদ,রিশাদ তখনও অচেতন অবস্থায়ই আছে।জল ওদের দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাসি দেয়।আজ রাত থেকেই শুরু হবে ওদের শাস্তি।বর্ষার প্রতি অন্যায়ের শাস্তি।ধীরে সুস্থে কষ্ট দিয়ে মেরে ওদের দুনিয়া ছাড়া করবে জল।


চলবে,,,ইনশাআল্লাহ


Next part 

কোটেশন (Quotation) নিন

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

সিলেটের কোথায় আপনাদের সেবা দেওয়া হয়?
আমরা সিলেট শহরের ফাজিলচিস্ত, সুবিদ বাজারসহ সমগ্র সিলেটে থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম ফিটিংসের কাজ করে থাকি।
কীভাবে কোটেশন বা অনুমানিক খরচ জানতে পারব?
আমাদের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি WhatsApp-এর মাধ্যমে অথবা সরাসরি কল করে আপনার কাজের পরিমাপ জানিয়ে কোটেশন নিতে পারেন।